ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ছেলের চিকিৎসায় সর্বহারা বাবা

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৪২, ২৭ অক্টোবর ২০২৪
ছেলের চিকিৎসায় সর্বহারা বাবা
অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে মানুষের কাছে সহযোগিতা তুলছেন অসহায় বাবা মো. রফিক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মো. রফিক। পেশায় একজন রিকশা চালক। সংসারে তার এক মেয়ে, দুই ছেলে, স্ত্রী এবং বৃদ্ধ মা আছেন। গত কয়েক বছর আগেও রিকশা চালিয়ে সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবেই কাটছিল রফিকের দিন। তবে ১৪ বছর বয়সী ছেলে মো. হান্নানকে নিয়ে তার শুরু হয় এক করুণ সংগ্রাম। হান্নানের জন্মের বছর খানেকের মাথায় তার পুরো শরীর ফুলে যায়। এরপর স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিলে তাকে জানানো হয় হান্নানের কিডনিতে জটিলতা রয়েছে। তারপর থেকে এখন অবধি ছেলেকে বাঁচাতে প্রতিনিয়ত লড়ে যাচ্ছেন অসহায় বাবা মো. রফিক। তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার হাট এলাকার বাসিন্দা।

অসহায়ত্ব নিয়ে রিকশা চালক মো. রফিক জানান, আমার মোট তিন সন্তান। এরমধ্যে এক মেয়ে এবং দুই ছেলে। মেয়ে আর এক ছেলে আল্লাহর রহমতে সুস্থই আছে। তবে আরেক ছেলে হান্নানের জন্মের বছরখানেকের মাথায় তার পুরো শরীর ফুলে যায়। তার বয়স এখন প্রায় ১৪ বছর। ওই সময় হান্নানের শরীর ফুলে যাওয়ায় তাকে লালমোহনের চিকিৎসকের কাছে নিই। তখন চিকিৎসক জানান হান্নানের কিডনিতে সমস্যা রয়েছে। যার জন্য লালমোহনের ওই চিকিৎসক পরামর্শ দেন তাকে ঢাকায় নেয়ার জন্য। এরপর হান্নানকে ঢাকার শ্যামলিতে  নিয়ে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখাই। 

তিনি জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হন আমার ছেলে হান্নানের দুই কিডনিতেই সমস্যা রয়েছে। যার জন্য তার নিয়মিত চিকিৎসা চালাতে হবে। এরপর থেকে তাকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাই। এ পর্যন্ত হান্নানের চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১৪ লাখ টাকার মতো খরচ হয়ে গেছে। নিয়মিত চিকিৎসা চালালে সে ভালো থাকে। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলেই হান্নানের পুরো শরীর ফুলে যায়।

Advertisement

তিনি আরো জানান, হান্নানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজের বসতভিটাটুকুও বিক্রি করে দিয়েছি। এখন আশ্রয় নিয়েছি সরকারি আবাসনে। এখনো অন্তত ৭ লাখ টাকার মতো মানুষের দেনা রয়েছি। যার জন্য সংসার চালাতেও ব্যাপক কষ্ট হয়। এছাড়া কোনোভাবেই সুস্থ করতে পারছি না ছেলেকে। টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা এখন বন্ধের পথে। যার জন্য তার শরীর আবার ফুলে গেছে। এজন্য তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। টাকা না থাকায় এখন বাধ্য হয়ে মানুষের কাছে সাহায্য তুলেছি। এর মাধ্যমে কিছু টাকা জমলে ছেলেকে আবার চিকিৎসকের কাছে নেবো। তবে এভাবে আর কতদিন ছেলের চিকিৎসা করাতে পারবো। তাই আমি সরকারি-বেসরকারি এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি। বড় ধরনের আর্থিক সহযোগিতা পেলেই ছেলেকে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে পরিপূর্ণ সুস্থ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। কেউ আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগের অনুরোধ রইলো।

লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, আমাদের সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে বিভিন্ন দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সহযোগিতার ব্যবস্থা রয়েছে। রফিক নামে ওই ব্যক্তি তার ছেলের জন্য সহযোগিতা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আমাদের কাছে আবেদন করলে তা যাচাই-বাচাই করে তার ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: ভোলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!