শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের কাজিকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কামাল বেপারী কাজিকান্দি এলাকার মৃত হোসেন বেপারীর ছেলে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক।
.png)
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নড়িয়া উপজেলার কাজিকান্দি এলাকার আলী হোসেন সরদারের সঙ্গে একই এলাকার কামাল বেপারীর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলেছে। শুক্রবার সকালে স্থানীয় একটি সাঁকো নিয়ে কামাল বেপারীর স্ত্রী মাসুদা বেগমের সঙ্গে প্রতিপক্ষ আলী হোসেনের চাচাতো ভাই আয়নাল সরদারের স্ত্রী শিরিন বেগমের বাগ-বিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে আলী হোসেন, আয়নাল সরদাররা ক্ষিপ্ত হয়।
পরে দুপুরে স্থানীয় আন্ধারমানিক বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার সময় আলী হোসেন, আয়নাল সরদারসহ ১০-১২ জন কামাল বেপারীকে কাজিকান্দি এলাকার ইদ্রিস সরদারের বাড়ির ভেতরে নিয়ে চাপাতি, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে স্থানীয় দেওয়ান মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করেন। বিকেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
নিহত কামাল বেপারীর বড় ভাই সুলতান বেপারী (৫২) বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আলী হোসেন, আয়নালদের সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব ছিল। আজ তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আমার ভাইকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে তারা। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করছি।
কামাল বেপারীর মা রঙ মালা বেগম (৭৫) বলেন, আমি তো কানে শুনি না। চোখে দেখি। লোকজন দৌড়াদৌড়ি করছে। পরে আমি গিয়ে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় আমার ছেলে মাটিতে পড়ে আছে। আমার ছেলেকে পানিতে ফেলবে দেখে চিৎকার করি। তাই ছেলেকে পানিতে ফেলেনি। তাকিয়ে দেখি সারা শরীরে আঘাত। পরে হাসপাতালে নিলে সে মারা যায়। আমি আমার ছেলেকে কি আর পাব না?
অভিযুক্ত আলী হোসেন সরদার ও আয়নাল সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের পাওয়া যায়নি।
নড়িয়া থানার ওসি আসলাম উদ্দিন মোল্লা বলেন, কাজিকান্দি এলাকায় এক কৃষককে কুপিয়ে জখম করেছে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়। লাশ ঢাকা মেডিকেলে আছে। এ ঘটনায় এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছি। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।