শহরের পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে বাসটার্মিনাল, মাসকান্দা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল ও টাঙ্গাইল বাসটার্মিনালে জায়গা সংকুলান থাকলেও গিজগিজ অবস্থায় রাখা হয় বাস। একদিকে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে শহরে অবস্থিত এসব বাসটার্মিনালের কারণে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট। এগুলো নির্দিষ্ট দুরত্বে সরিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে দাবি উঠলেও আশ্বাস ছাড়া মেলেনি বাস্তবায়ন।
এভাবে বাস রাখার জায়গা মিললেও সবচেয়ে অবহেলিত ট্রাক চালকরা। তারা বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প, মটর গ্যারেজসহ সড়কের পাশে রেখে দেয়। এতে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটার পাশাপাশি ট্রাক কিংবা মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটছে।
.png)
গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া সরকারবাড়ি এলাকার নাজমুল পারভেজ মোটরসাইকেলে করে তার স্ত্রী দিলরুবা জেবিনকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। জেলার ত্রিশালে ঘুরাঘুরি শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরছিলেন। নগরীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শিকারিকান্দা এলাকা পর্যন্ত আসতেই সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই স্বামী-স্ত্রী মারা যান। নাজমুল পারভেজ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি করতেন।
সড়ক-মহাসড়কের পাশে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে এভাবে মাঝেমধ্যেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। খবর পেয়ে মাঝেমধ্যে ট্রাক উদ্ধার করে থানায় নিচ্ছে পুলিশ। আটক হচ্ছে চালক কিংবা হেল্পপার। কিন্তু এমন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে ট্রাক টার্মিনাল না থাকা।
অন্তত ২৫ বছর যাবত ট্রাক চালান ময়মনসিংহ শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আমজাদ মিয়া। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বছর ঘুরছে, ট্রাকের সংখ্যা বাড়ছে। নগরীতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে। কিন্তু ট্রাক টার্মিনাল না থাকার কারনে চালকরা যেখানে সুযোগ পাচ্ছে গাড়ি রেখে দিচ্ছে। এতে যে শুধু দুর্ঘটনাই ঘটছে তা নয়; অনেক সময় ট্রাকের চালককে মারধর করে গাড়ি ছিনতাই কিংবা মালামাল লুট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। চালকরা নিরাপত্তাহীনতায় গাড়ির ভেতর ঘুমোচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার মধ্যে নেই কোনো ট্রাক টার্মিনাল। ময়মনসিংহ নগরীতে ছোট-বড় অন্তত এক হাজার ট্রাক রয়েছে। অর্ধেক ট্রাক বিভিন্ন পণ্য বোঝাই করে জেলার বাইরে চলে গেলেও বাকি অর্ধেক ট্রাক নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প, মটর গ্যারেজসহ সড়কের পাশে রেখে দেয় চালকরা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের অনেক চালক সড়কের পাশেই ট্রাক রেখে দেয়।
জেলা মটরযান কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইখতিয়ার আহমেদ রনি বলেন, সম্প্রতি নগরীর দিঘারকান্দা এলাকায় পেট্রোল পাম্প থেকে গভীর রাতে একটি ট্রাক চুরি হয়। ত্রিশালের কাছাকাছি পর্যন্ত যেতেই গাড়ির তেল শেষ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় চোর ট্রাক রেখে পালিয়ে যায়। ট্রাকসহ পণ্য চুরির ভয়ে চালকরা শান্তিতে ট্রাকের ভেতরেও ঘুমোতে পারে না। একটি টার্মিনাল থাকলে দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি ট্রাকের চালকসহ মালিকরাও স্বস্তি পেতেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মো. ইউসুফ আলী বলেন, প্রায় চার মাস আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ট্রাক টার্মিনাল নির্মানের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ের সীদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।