নিহত আসমা উপজেলার গোপালদী পৌরসভার রামচন্দ্রদী এলাকার ফালু মিয়ার কন্যা এবং তার স্বামী মাহমুদপুর ইউনিয়নের কল্যান্দী এলাকার মৃত কবির হোসেনের ছেলে। রোববার রাতে নিহতের শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের বড় বোন উম্মে হাবিবা অভিযোগ করে জানান, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে উপজেলার কল্যান্দী গ্রামের মৃত কবির হোসেনের ছেলে আমজাদের সঙ্গে আসমার বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে আমজাদ মোটা অংকের টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য আসমাকে নির্যাতন করেন ও প্রাণনাশের হুমকি দিতেন। গত ঈদুল আজহার পরও আসমাকে মারধরে আহত করে যৌতুকের জন্য তার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেন। পরে পিত্রালয় থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা যৌতুক এনে দেন। এর আগেও পিত্রালয় থেকে দেওয়া প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে টাকা নষ্ট করে ফেলেন আমজাদ। কিন্তু তাতেও আমজাদ সন্তুষ্ট না হয়ে আসমার উপর অত্যাচার নির্যাতন অব্যাহত রাখেন।
.png)
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে আমজাদ এবং তার পরিবারের লোকজন আসমাকে একই কারণে মারধরের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য ঘরে এক প্যাকেট বিষাক্ত দ্রব্য (স্থানীয় ভাষায় কেড়ির বড়ি) এনে টেবিলের উপর রেখে দেন। কিন্তু বড়ির প্যাকেটটি ছিল অক্ষত।
নিহতের বাবা ফালু অভিযোগ করে বলেন, আমজাদের পরিবারের সদস্যরা লোক দেখানোর জন্য আসমাকে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরে ডাক্তার এখানে তার চিকিৎসা করা সম্ভব না বলে আসমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কিন্তু আমজাদ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে নারায়ণগঞ্জ পপুলার হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ডাক্তার আসমাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফলে আমজাদ তড়িঘড়ি করে আসমার লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে রেখে স্বপরিবারে পালিয়ে যান। সংবাদ পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের বোন আবুতালেব মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকা উম্মে হাবিবা জানান, আমার বোনের ঠোঁটে কাটা দাগসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে এবং তার পরনের জামা কাপড় ছেঁড়া রয়েছে। তার দাবি, বোনকে হত্যা করা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি আহসান উল্লাহ জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ঘটনাটি আত্মহত্যা। তবে সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গ্রে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। বর্তমানে একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করা হয়েছে। রিপোর্টে আসলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।