স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমের আগে ড্রেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা না হলে সারাই এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতাসহ ফসলি জমির মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন (বিএমডব্লিউএসএসপি) প্রকল্পের আওতায় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন শাখার কাহালু পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সারাই বাজার থেকে বড় ব্রিজ পর্যন্ত ৭৩৯ মিটার আরসিসি ঢালাই ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ২ কোটি ২২ লাখ ৩২ হাজার ৯৫০ টাকা।
কাহালু পৌরসভার সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকৌশল বিভাগ। জেওবি বিশ্ব ব্যাংক এআইবির অর্থায়নে মেসার্স রাশেদুজ্জামান পিটার অ্যান্ড মনির ট্রেডার্স জেভি নামের ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শুরু করেন। প্রকল্পটির শুরুতেই কয়েক দফায় কাজ শুরু হলেও বর্তমানে একেবারে বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ।
.png)
কাহালু পৌরসভার ওয়াটার সুপার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রথম কিস্তির টাকাও উত্তোলন করেছে। পরবর্তীতে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইডে নির্মাণ সামগ্রী থাকলেও প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করতে অনীহা প্রকাশ করে। এছাড়া ড্রেন নির্মাণে আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য কিছু অংশে সাটারিং করা হলেও তা ফেলে রেখে কাজ বন্ধ রাখে।
এদিকে কাহালু পৌরসভা ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের বিল নিতে বারবার আহ্বান জানালেও কোনো সাড়া মিলেনি। দীর্ঘদিনে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হওয়ায় কাহালু পৌরসভার প্রকৌশলী বিভাগ তাদের বারবার অবহিতকরণ চিঠি দিয়েও কোনো উত্তর পায়নি৷ বিষয়টি বগুড়ার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। পরে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করতে পৌরসভা ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির চুক্তিপত্র বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে ডন অ্যান্ড শিলা জেভি নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পটির কাজ দেয়। বর্তমানে এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাহালু রেলগেট থেকে সাবাই বড় ব্রিজ পর্যন্ত এক হাজার মিটার আরসিসি ঢালাই ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু করেছে।
কাহালু পৌর মেয়র আব্দুল মান্নান জানান, দুই দফায় ঠিকাদার কাজ ফেলে যাওয়ায় ড্রেন নির্মাণকাজ বিলম্ব হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কাহালু পৌরবাসীকে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।
বগুড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানান, কাহালু পৌর এলাকায় আরসিসি ঢালাই ড্রেন নির্মাণকাজ ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সেজন্য কাজটি সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। কাজটি নতুন ঠিকাদরকে কাজ দেওয়া হয়েছে। তারা এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করবে বলেও জানান তিনি।