ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
রামেক হাসপাতাল

বছরে ইন্টার্ন বাণিজ্য ৩৬ কোটি টাকা

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:২২, ১২ জুলাই ২০২৪
বছরে ইন্টার্ন বাণিজ্য ৩৬ কোটি টাকা
ফাইল ফটো

কোনো নিয়ম নেই, নেই কোনো নির্দেশনাও। অথচ বছরে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার অবৈধ ইন্টার্ন বাণিজ্য চালাচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতাল পরিচালক বলছেন, নীতিমালার মাধ্যমে স্বচ্ছভাবেই খরচ করা হয় এসব টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ দিয়ে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে আদায় করা হচ্ছে ৬ হাজার টাকা। আর ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসের নামে প্রতিমাসে নেয়া হচ্ছে আরো ১ হাজার টাকা। একজন শিক্ষার্থী ছয় মাসে দেন সাত হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতিবছর শুধু বেসরকারি নার্সিং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আদায় করে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, এই টাকার বাইরেও প্রতিষ্ঠানগুলোর ইন্টার্ন কোর্স অনুমোদনের জন্য মোটা অংকের কমিশন হাসপাতাল পরিচালকসহ কিছু কর্তার পকেটে যায়। আর রশিদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে আদায় করা অর্থের একটা বড় অংশ সরকারি কোনো কোষাগারে জমা হয় না। হাসপাতালের পরিচালক, সেবা তত্ত্বাবধায়ক ও নার্সিং মিডওয়াইফারি পরিচালকসহ একটি চক্র এই টাকা আত্মসাৎ করে৷

Advertisement

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) তাদের তদন্ত প্রতিবেদনেও এসব দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠিয়েছে। গত ৩ মে এ প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক সৌরভ চন্দ্র দাস। 

এতে বলা হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি হয়। আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোশিয়েশন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নার্সিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ তদন্ত করে দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস ও ইন্টার্নশিপ করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই।

জানা যায়, রামেক হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক সুফিয়া খাতুন ও হাসপাতাল প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সরকারি হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগের জন্য বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করেন।

দুর্নীতি অব্যাহত রাখতে ওপর মহলে নিয়মিত মাসোহারা দিতেন সুফিয়া খাতুন। তার মাধ্যমে মাসোহারা পেতেন– নার্সিং মিডওয়াইফারি পরিচালক (প্রশাসন) নাসির উদ্দীন, নার্সিং সেবা-১ শাখার উপসচিব আনোয়ারুল হক, সহকারী সচিব (নার্সিং সেবা শাখা-২) কামাল হোসেনসহ কর্মকর্তারা। অভিযুক্ত সেবা তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি ও বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ এই তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্নীতির এসব তথ্য পায়।

সুফিয়া খাতুন বলেন, হাসপাতালের ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে এসব টাকা আদায় হয়। এগুলো তো সরকারি টাকা নয়। তাই সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। এই টাকা স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় খরচ হয়। হাসপাতালের পরিচালক সব জানেন। 

রামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহম্মেদ বলেন, আমরা নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ইর্ন্টান করার সুযোগ দেই। আমরা ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ ও ৩ মাসের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসের জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে নিই। যে টাকা ওই শিক্ষার্থীদের পেছনেই খরচ করা হয়। রশিদ দিয়েই এ টাকা নেয়া হয়। হাসপাতালে ২০২১ সাল থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্ন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থীর থেকে ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। যে টাকা নীতিমালা অনুযায়ী ব্যয় করা হয়েছে। বছরে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার আদায়ের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

বিএনএ সভাপতি গোলাম মূর্শেদ বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এভাবে টাকা লেনদেনের কোনো নিয়ম নেই। অথচ রামেক হাসপাতালে রশিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!