অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম শাহীন আকতার। তিনি উপজেলার জোটপুকুর পাড় এলাকার বাগে সিরিকোট তাহফিজুল কুরআন আইডিয়াল মাদরাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী আয়াতুল ইসলাম (৭) ওই মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, গত ২৬ মে শিক্ষক শাহীন আকতার বেত দিয়ে মারার সময় চোখে আঘাত পায় আয়াতুল। বিষয়টি গোপন রেখে নিজের মতো করে আয়াতুলের চিকিৎসা করান শাহীন। অপচিকিৎসার ফলে নষ্ট হয়ে যায় আয়াতুলের চোখ। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (২৫ জুন) বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দ্বারস্থ হন আয়াতুলের মা স্বপ্না আক্তার। ছেলের সুচিকিৎসা ও ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন ইউএনও ইমরান হোসাইন সজীব।
.png)
আয়াতুলের মা স্বপ্না আক্তার বলেন, পড়া কম পড়ার অজুহাতে আমার ছেলের বাম চোখে বেত্রাঘাত করেন শিক্ষক শাহীন আকতার। সকল চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- চোখের মণিতে ব্যাপক আঘাত হওয়ায় সে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। গত ২৬ মে ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি গোপন রাখেন ওই শিক্ষক।
আয়াতুলের বাবা সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, ছেলেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে মাদরাসায় দিয়েছিলাম। তার এমন অবস্থায় আমরা পুরো পরিবার মর্মাহত। চিকিৎসকরা বলেছেন- আমার ছেলে এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে। আমি উপজেলা সদরে মুদি দোকানে চাকরি করি। ছেলের চিকিৎসায় এ পর্যন্ত ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।
এদিকে, মারধরের কথা অস্বীকার করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মানিক। তিনি বলেন, কেউ মারধর করেনি। চোখ লাল হওয়ায় তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ইউএনও ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়েছি। আয়াতুলের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। সেইসঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।