মঙ্গলবার র্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ২২ জুন বগুড়া সদর থানার বালা কৈগাড়ী গ্রামের মো. আব্দুল ওহাব ও তার সহযোগীরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে ইউনুস আলীকে মারপিট ও ড্রেনে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
.png)
নিহত ইউনুসের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বড় ছেলে মো. শাহিন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মো. আব্দুল ওহারের স্ত্রীকে হাত ধরে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। এ ঘটনার জের ধরে আব্দুল ওহাব বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মো. শাহিনকে মারধর করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের ছোট ছেলে ও মামলার বাদী মো. গোলাম রসুল গত ২২ জুন আব্দুল ওহাবকে দেখতে পেয়ে মারধরের কারণ জিজ্ঞেস করেন৷ এ সময় ওহাব ক্ষিপ্ত হয়ে তার পরিবারের অন্যান্যদের নিয়ে ভিকটিমের ছোট ছেলে মো. গোলাম রসুলকে মারধর শুরু করেন। তার আত্মচিৎকারে পাশে থাকা নিহত ইউনুস মসজিদ থেকে বের হয়ে ছেলেকে বাঁচাতে দৌড়ে ঘটনাস্থানে এগিয়ে আসেন৷ এ সময় আব্দুল ওহাব সন্ত্রাসী কায়দায় ইউনুসকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং মসজিদের পাশে ড্রেনে মাথা চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ওহাব আত্মগোপনে ছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তির মাধ্যমে রংপুর র্যাব-১৩ হত্যার ঘটনার বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এক পর্যায়ে তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে রংপুর জেলার সদর উপজেলার বিদ্যিবান গ্রামে অভিযান চালায়। সেখানে র্যাবের উপস্থিত টের পেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন ওহাব। এদিকে র্যাবও নাছোড়বান্দা তারাও অভিযান চালিয়ে নদী থেকেই তাকে গ্রেফতার করে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি ভিকটিম ইউনুছ আলীকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন। পরে আসামি ওহাবকে বগুড়া জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।