চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর ও দেওয়ানহাটের সরকারি কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে (সিএসডি) শ্রমিকদের নামে ট্রাকপ্রতি এক হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করেন গুদামের শ্রমিক সরদাররা। একই অবস্থা কক্সবাজার, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় খাদ্যগুদামেও (এলএসডিতে)।
গুদামে চাল-গম বোঝাই ও খালাসের জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করে সরকার। সেই মজুরির বাইরে জোর করেই বকশিশের নামে চাঁদা আদায় করেন শ্রমিকরা। এ বিষয়ে গত ১২ মে খাদ্য বিভাগের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর চিঠি দেয় বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।
.png)
ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুর রহমান বলেন, খাদ্যগুদামগুলোতে উচ্চ দামে হ্যান্ডলিং লেবার ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিল দিচ্ছে সরকার। এরপরও বকশিশের নামে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। বিষয়টি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
সরকারি তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যত চাল-গম আমদানি হয়, তার বেশিরভাগই বন্দর থেকে সরাসরি চলে যায় দেশের বিভিন্ন এলএসডিতে। সংকটকালের জন্য কিছু অংশ সিএসডিতে জমা রাখা হয়। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প কিংবা কর্মসূচির চাল-গম সিএসডি ও এলএসডি থেকেই নেয়া হয়। এভাবে দেশের ৬৩২টি এলএসডি ও ১১টি সিএসডিতে প্রায় সারা বছরই চলে খাদ্য আনা-নেয়া কার্যক্রম।
প্রতিদিনের সরকার নির্ধারিত শ্রমিক মজুরি নিজ তহবিল থেকে পরিশোধ করেন শ্রমিক ঠিকাদার। মাস শেষে জেলা বা বিভাগের খাদ্য নিয়ন্ত্রক ঠিকাদারকে ওই বিল পরিশোধ করেন। এ খাতে বছরে সরকারের খরচ হয় ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা।
গুদাম সূত্রে জানা গেছে, একটি ট্রাক গুদামে ঢোকার পর তিন জায়গায় বকশিশ দিতে হয়। এর মধ্যে গেটের নিরাপত্তাকর্মীকে ৫০ টাকা, ওজন স্কেলের কর্মীকে ১০০ টাকা এবং শ্রমিকদের এক হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। ক্ষেত্র বিশেষে আরো বেশি টাকাও গুনতে হয়।
দেওয়ানহাট সিএসডি গুদামের শ্রমিক ঠিকাদার মাহমুদুল হক বলেন, ট্রাকে নির্ধারিত ওজনের বেশি মাল থাকে বলে অথবা বেশি কাজ করানো হয় বলে বকশিশ দিতে হয়। চাল-গম উঠানো-নামানোর জন্য কমিশনসহ প্রতি টনে ১৭২ টাকা মজুরি পান শ্রমিকরা। সেই সঙ্গে প্রতি ট্রাকে (১৫ টন পরিমাণ) বকশিশ এক হাজার টাকা।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দোলন দেব বলেন, এরইমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।