ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কাঁটা পিঠে গেঁথে লোহার দণ্ডে ঝুলছে সন্ন্যাসী, উল্লাসে মেতেছে

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২১, ১৬ মে ২০২৪
কাঁটা পিঠে গেঁথে লোহার দণ্ডে ঝুলছে সন্ন্যাসী, উল্লাসে মেতেছে
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বড়শির মতো বাঁকানো একটি লোহার কাঁটা পিঠে গেঁথে বিশাল কাষ্ঠ দণ্ডে ঝুলছে সন্ন্যাসী। তাদের ঘোরানো হচ্ছে চক্রাকারে। সন্ন্যাসীদের কারও হাতে রয়েছে লাঠি, আবার কেউ কেউ ঘুরতে ঘুরতেই শূন্যে পায়রা হয়ে যাচ্ছেন। থেমে থেমে একেকবার একেক সন্ন্যাসী এভাবে ঘুরছেন। আর ঘুর্ণায়ন যখন বিশাল কাষ্ঠ দণ্ডের শীর্ষে পৌঁছাচ্ছে, তখন দর্শনার্থীদের উল্লাসের মাত্রাও শীর্ষে! আর হিন্দু ধর্মাম্বলম্বীরা সমস্বরে উলুধ্বনি দিচ্ছে।

বুধবার (১৫ মে) বিকেলে রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি সংলগ্ন পদ্মার চরে চড়ক মেলায় এ দৃশ্য দেখা যায়। এ মেলার আয়োজন করে পদ্মা সর্বজনীন শিবমন্দির। শিবপূজা ও হাজরা পূজা উদযাপন উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

মেলার উদ্বোধন করেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শফিকুর রহমান বাদশা।

Advertisement

পদ্মা সর্বজনীন শিবমন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনদিন ধরে এ পূজার কার্যক্রম চলছে। বুধবার ছিল পূজার তৃতীয় দিন। প্রথম দিন ছিল সংযমের দিন। এদিন সন্ন্যাসীরা উপবাস করেন। দ্বিতীয় দিন উপবাস ভাঙেন ফল খাওয়ার মধ্য দিয়ে। তার আগে ফলগুলো প্রতিমার চরণে রাখা হয়। আয়োজন করা হয় শিবপূজা ও হাজরা পূজার। সোমবার পূজার তৃতীয় দিনে ছিল ভক্তিমূলক গান ও নাচ। আরও ছিল খেলাধুলা। পরে আয়োজন করা হয় চড়কের।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ বলেন, চড়কতলায় প্রোথিত করা হয়েছে চড়কগাছ। সেটির মাথার মাঝখানে ছিদ্র করে স্থাপন করা হয়েছে আরেকটি কাঠখণ্ড যেটি শূন্যে বৃত্তাকারে ঘুরতে পারে চারপাশে। এর এক প্রান্তের দড়িতে একে একে গামছা এবং কাপড় বেঁধে ঝুলানো হয়েছে কয়েক সন্ন্যাসীকে। তারপর তাদের চক্রাকারে ঘোরানো হচ্ছে চরকির মতো।

তিনি আরো বলেন, বৈশাখ মাস বা কালবৈশাখী ভালো মাস নয়। এই পূজার মাধ্যমে ভগবানের কাছে আমরা নানা প্রার্থনা করি।

চড়ক দেখতে আসা নগরীর রাজশ্রী দেবী বলেন, চড়ক মেলা, চড়ক পূজা এসব বিষয়ে শুনেছি। আজ দেখলাম। খুবই আনন্দ লাগছে। আমার মতো অনেক মানুষ আছেন, যারা প্রথমবার চড়ক দেখছে।

মনষা দেবী বলেন, এই চড়কে যিনি চড়েন, তাকে অনেক ত্যাগের পরীক্ষা দিতে হয়। চড়কে ঘোরার জন্য সাহসেরও দরকার আছে। অনেকে ভয়ে ঝুলতেই চান না। এই দৃশ্য দেখে ভগবান নিশ্চয় আমাদের প্রার্থণা ফিরিয়ে দেবেন না।

এদিকে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ পেয়েছি। আর এ দেশ একক কোনো সম্প্রদায়ের মাধ্যমে স্বাধীন হয়নি। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের শ্রেণি-পেশার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, সব ধর্মের মানুষ যেন তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে। এক্ষেত্রে তারা সব ধরনের সহযোগিতা করবে এবং তারা সহযোগিতা করছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!