ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চরাঞ্চলে দস্যুদের আক্রমণে কোণঠাসা চাষিরা, লুট হচ্ছে ফসলি জমি

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১৮:০৫, ১২ মে ২০২৪
চরাঞ্চলে দস্যুদের আক্রমণে কোণঠাসা চাষিরা, লুট হচ্ছে ফসলি জমি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের বিছিন্ন দ্বীপ চর মেঘায় জলদস্যু ও ভূমিদস্যুদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি-ছাড়া হয়েছে শত শত চাষি পরিবার। একনালা দোনালা বন্দুক, দা-ছেনিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলছে সন্ত্রাসীদের নিয়মিত মহড়া। সেখানে স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে তারা। দস্যুরা চাষিদের ফসল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

ভোলার রাসেল খাঁ, হালিম খাঁ, মিন্টু খাঁসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে এবং লক্ষ্মীপুরের শাহজালাল রাহু, রশিদ মোল্লার নেতৃত্বে এমন ঘটনা ঘটছে সেখানে। চাষিদের মারধর, হাত পা কেটে দেওয়াসহ  হত্যার মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা।

জানা গেছে, একটা বিশাল বাহিনী দিয়ে তাণ্ডব চালান রাসেল খাঁ নামের দস্যু। যার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটা মামলাও রয়েছে। তারা তাঁবু করে অবস্থান করেন সেখানে। কয়েকদিনের অব্যাহত তাণ্ডবে শত শত মানুষ আহত ও অন্তত দেড় শতাধিক পরিবার বাড়িছাড়া হয়। জীবনের নিরাপত্তা নেই তাদের। এ অবস্থায় আতঙ্কে রয়েছেন চর মেঘার সাধারণ মানুষ।

Advertisement

চররমনী মোহন এলাকার কামরুল সরকার, হারুন মোল্লা, ইলিয়াস মীরসহ অনেকে তাদের মদদ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

অভিযোগ রয়েছে, চর মেঘায় ৫ শতাধিক একর জমিতে দেড়শতাধিক চাষি বিভিন্ন ফসল আবাদ করেন। আবাদকৃত ফসল তোলার সময় সন্ত্রাসী ও দস্যুরা দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে হামলা মারধরসহ নির্যাতন করা হয়। লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় ক্ষেতের সয়াবিন, বাদাম, ডাল, তরমুজ, ধানসহ বিভিন্ন ফসল। বাধা দিলে দা-ছেনি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। এতে অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

সর্বশেষ গত রোববার (৫ মে) রাত থেকে সশস্ত্র মহাড়া দেয় দস্যুরা। সোমবার দিনের বেলায় ফলনকৃত ফসল আনতে গেলে গুলি করে ধাওয়া দেয় তারা। এর গত দু’বছর আগেও দুই চাষি সহোদরকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেয় এবং তাদেরই একজনের শিশুসন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে। এছাড়া ঐ চরে দস্যুদের হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে জানান স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের বিছিন্ন দ্বীপ চর মেঘাভুক্তভোগী সিরাজ সর্দার বলেন, বিগত দুই বছর ধরে তারা আমাদের ফসল ওঠাতে দেয় না। ভোলার রাসেল খাঁ ও হালিম খাঁর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা চার পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চায়। না দিলে চাষিদের সব ফসল তুলে লুট করে নিয়ে যায়। লক্ষ্মীপুরের রশিদ মোল্লা শাহজালাল রাহু তাদের মদদে আমাদের সব ফসল লুট করে। বাধা দিলে মারধর করে, হাত পা কেটে দেয। তাদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ।

তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ কয়েকদিন আগেও ফসল আনতে গিয়ে গুলির মুখে পড়েছি। তারা গুলি করে আমাদের নদীতে ফেলে দিয়েছে। আমরা এসব বিষয় পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি।

আরেক ভুক্তভোগী খোনক খাঁ বলেন, জমির ফসল তলতে চাইলে তারা চাঁদা চায়, না দিলে হাত ভেঙে দেয়। একটা শিশু বাচ্চাকে গলা কেটে হত্যা করেছে। তারা চুরি, ডাকাতি, লুট করে। তারা জেলেদেরকেও ছাড়ে না। বর্তমানে চরে বসবাস তাদের জন্য সম্পূর্ণ ঝুঁকি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

চররমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান আবু ছৈয়াল ইউছুফ বলেন, তারা সন্ত্রাসী। এর আগেও রাকিব এবং শেখ ফরিদসহ দুইজনকে হত্যা করা হয়েছে। অনেকের হাত-পা কেটে দিয়েছে। এখন সয়াবিন তোলার সময়। চাষিরা সয়াবিন তুলতে গেলে রাসেল খাঁ, হালিম খাঁ, মিন্টু খাঁর নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের বাহিনী আছে তারা ফসল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি আবেদন, প্রশাসন যেন দ্রুত আমাদের এসব চাষিদের রক্ষা করে। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহেল রানা বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে একটা অভিযোগ এসেছে। আমরা একটা অভিযান চালাবো। যারা অভিযুক্ত এবং এমন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!