বৃহস্পতিবার (২ মে) রাতে আলকরণ দুই নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ।
আহত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৩৩ নম্বর নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লবের সহকারী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
.png)
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অভয়মিত্র ঘাট ও ব্রিজঘাটে বিভিন্ন জাহাজ থেকে স্ক্র্যাপ আনলোডের সময় অনেক স্ক্র্যাপ পানিতে পড়ে যায়। সেই স্ক্র্যাপ পানি থেকে তুলে বিক্রি করা হয় বিভিন্ন ভাঙারিদের কাছে। স্ক্র্যাপগুলো তুলতে সেখানে সক্রিয় রয়েছে অন্তত তিন থেকে পাঁচটি সিন্ডিকেট।
মূলত স্ক্র্যাপ বিক্রি নিয়ে আলকরণ ওয়ার্ডের তিন নম্বর গলির অভির সঙ্গে দুই নম্বর গলির আকাশের দ্বন্দ্ব চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। সবশেষ বুধবার বিকেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জেরে বুধবার রাতে অভির পক্ষ হয়ে প্রায় শ’ খানেক কিশোর নিয়ে আলকরণ এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দেয় তার বন্ধু ফিরিঙ্গিবাজারের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার ডোম আসিফ। এ দিন তারা আলকরণ মসজিদ হয়ে চক্রবর্তী কলোনির ১১ তলায় গিয়ে বিভিন্ন দোকান ভাঙচুর করে। এছাড়া কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একটি অটোরিকশায়ও ভাঙচুর চালায়।
পরদিন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আবারো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আলকরণ এলাকায় তাণ্ডব চালায় আসিফ। তারা আনসার গলির সামনের কয়েকটি দোকানেও ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে চসিকের ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সালাম মাসুম সেখানে উপস্থিত হন। তারা কিশোর গ্যাং সদস্যের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে থাকলে এ সময় হামলায় কাউন্সিলর হাসান মুরাদের সহকারী সালাউদ্দিন আহত হন।
কোতোয়ালি থানার ওসি এস এম ওবায়েদুল হক বলেন, আলকরণে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নিয়েছি সেখানে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ওসি বলেন, মেয়ে সংস্ক্রান্ত বিষয়ে ঝামেলা বলে শুনেছি। যদিও এটা শোনা কথা। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
কাউন্সিলর আবদুস সালাম মাসুম বলেন, যতটুকু জেনেছি-আলকরণ তিন নম্বর গলির একটি ছেলের সঙ্গে দুই নম্বর গলির একটি ছেলের অনেকদিন ধরে রেশারেশি হচ্ছে। ঘটনার সূত্রপাত অভয়মিত্র ঘাট এবং চেয়ারম্যান ঘাটে জাহাজের মালামাল চুরি বা বেচাবিক্রি নিয়ে। এগুলো নিয়ে ডোম আসিফ নামে একটি ছেলে তার গ্যাং নিয়ে ফিরিঙ্গিবাজার এলাকা থেকে আমার এলাকায় (আলকরণ) চলে আসে। এ ঘটনার সঙ্গে আমার এলাকারও আকাশ নামে একটি ছেলে জড়িত আছে।
কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব বলেন, আমরা একটি মেজবানের দাওয়াতে ছিলাম। সেখান থেকে ঘটনা শুনে ছুটে আসি আলকরণে। আমার সঙ্গে সবসময় সালাউদ্দিন নামে একজন থাকে। তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। মাথায় আঘাত পেয়ে সে এখন চমেক হাসপাতালে ভর্তি আছে।
তিনি বলেন, দা, ছুরি, কিরিচ নিয়ে এসেছিল তারা। আমার সামনেই তারা সালাউদ্দিনের ওপর হামলা করেছে।