বুধবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ১২ শতাংশ।
বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় ঘরে ভ্যাপসা গরম আর বাইরে রোদের তাপে শরীর জ্বালা পোড়া অনুভূত হচ্ছে বলে জানান চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান।
.png)
দাবদাহে সবচাইতে বেশি বিপাকে পড়েছে দিন মজুর খেটে খাওয়া রিকশা ভ্যান চালকরা। হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে রিকশা ভ্যান চালক ও দিন মজুর শ্রমিকরা কাছ করছে বাধ্য হয়ে।
চুয়াডাঙ্গা সদরের মুসলিম পাড়ার ভ্যানচালক আবু বক্কর জানান, রোদ গরমে রাস্তা ঘাটে বাজারে কোনো লোক না থাকায় দিনের বেলা কোনো প্যাসেঞ্জার পাচ্ছি না। তা ছাড়া এই রোদ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয়ে ভাড়া মারতেও ভয় পাচ্ছি। তার পরও সংসারের খরচ মেটাতে ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি।
দামুড়হুদার দশমী গ্রামের রিকশা চালক খোকন জানান, রোদ গরম পড়লেও কী ঘরে বসে থাকতে পারবো? পারবো না। ভাতের ব্যবস্থা না করতে পারলে বাড়ির সবাই না খেয়ে থাকবে। ছেলে মেয়ে স্ত্রীর মুখের দিকে চেয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রোদ গরমে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি।
চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে অটোরিকশা নিয়ে গাছের ছায়ায় বসে থাকা অটোচালক মনিরুর বলেন, প্রচণ্ড রোদ গরমে মানুষ বাইর বের হচ্ছে না। মানুষ বের না হলে ভাড়া মারবো কীভাবে। তাই বসে অলস সময় কাটাচ্ছি। অতি গরমের কারণে মানুষ রাস্তায় কম বের হচ্ছে। এজন্য আমাদের ভাড়া হচ্ছে না।
এদিকে অতি তীব্র তাপদাহে গলে যাচ্ছে সড়কের পিচ। পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা অধিকাংশ গ্রামে টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। আবার পানি দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না মাঠের সবজি আবাদ। শুকিয়ে যাচ্ছে সড়কের পাশে নিমসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছসহ গাছের পাতা।
চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু থেকে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়ে আসছে এই জেলায়। একটানা ২০ দিন তীব্র থেকে অতি তীব্র দাবদাহে হাসপাতালে বেড়েই চলেছে জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও চিকিৎসক রয়েছেন ১০০ শয্যার হাসপাতালের অর্ধেক। সামান্য এই জনবল নিয়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তাররা। গরমজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন শতাধিক রোগী। শয্যা সংকুলান না হওয়ায় রোগীরা হাসপাতালের বারান্দা ও করিডোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া আউটডোরে শত শত গরমজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষ চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। আর এ রোগে আক্রান্তের বেশির ভাগ রোগীই শিশু ও বৃদ্ধ।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান জানান, বুধবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৩৩ শতাংশ। দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আদ্রতা ছিলো ১২ শতাংশ। বুধবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ১২ শতাংশ।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, গত প্রায় ১৬ ধরে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৭০ শতাংশ। দুপুর ১২ চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ২২ শতাংশ। বেলা ৩টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ১২ শতাংশ।
তিনি আরো জানান, জেলায় হিট এলার্ট জারি আছে। আগামী দুদিনের মধ্যে বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। বৃষ্টির দেখা মিললে অবস্থা জেলাবাসী কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে।