শনিবার বেলা ৩টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস চুয়াডাঙ্গার রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪৮ শতাংশ।
বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে বলে জানান চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান।
.png)
আর এই দাবদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর খেটে-খাওয়া রিকশা ও ভ্যান চালকরা।
হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ে ইটভাঙার মেশিনে তপ্ত দুপুরে কাজ করছেন শ্রীমতি তুলুমতি। তিনি বলেন, কাজ না করলে পেটে ভাত জুটবে না। আমাদের মত মানুষদের মরনের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই কাজ করতে হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদরের তালতলা পশুহাটপাড়ার ভ্যানচালক আব্দুর রহমান জানান, গরমে রাস্তা-ঘাটে বা বাজারে লোক না থাকায় দিনের বেলা কোনো প্যাসেঞ্জার পাচ্ছি না। তাছাড়া এই রোদ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয়ে ভাড়া মারতেও ভয় পাচ্ছি।
এদিকে, অতি তীব্র দাবদাহে গলে যাচ্ছে সড়কের পিচ। পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা অধিকাংশ গ্রামে টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। এছাড়া পানি দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না মাঠের সবজি আবাদ। শুকিয়ে যাচ্ছে সড়কের ধারের বিভিন্ন ফলজ ও বোনজ গাছসহ গাছের পাতা।
অপরদিকে, টানা ১৫ দিন তীব্র থেকে অতি তীব্র দাবদাহে হাসপাতালে বেড়েই চলেছে জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও চিকিৎসক রয়েছে ১০০ শয্যার হাসপাতালের অর্ধেক। সামান্য এই জনবল নিয়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তাররা। গরম জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন শতাধিক রোগী। শয্যা সংকুলান না হওয়ায় রোগীরা হাসপাতালের বারান্দা ও করিডোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তীব্র রোদের তাপের কারণে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান চালকরা কাজ করতে না পেরে অলস সময়ও পার করছেন। একটু প্রশান্তির খোঁজে গাছের ছায়া ও ঠান্ডা পরিবেশে স্বস্তি খুঁজছে স্বল্প আয়ের মানুষরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা ঘাটে লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ছে।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, টানা ১৬ দিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে।
তিনি জানান, শনিবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি, দুপুর ১২টায় ৩৯ দশমিক ডিগ্রি, বেলা ৩টায় ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪৮ শতাংশ। বাতাসে জলীয় বাষ্পের বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূত হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, চুয়াডাঙ্গায় জেলায় হিট অ্যালার্ট জারি আছে। আজ পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রার পারদ সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে ওঠা-নামা করছে। এপ্রিল মাসজুড়েই এ অবস্থা থাকবে। তাপমাত্রা আরো বাড়বে। সবাইকে সাবধানে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।