বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ শারমিন নিগার এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শারমিন আক্তার (৩৬) উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের মেহারী গ্রামের শামীম মিয়ার স্ত্রী। রায়ের সময় শারমীন আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
.png)
জানা যায়, উপজেলার মেহারি গ্রামের শামীম মিয়া স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রেখে বিদেশে চলে যান। তিন সন্তানের কথা চিন্তা করে শামীম মিয়া আরেকটি বিয়ে করেন। বড় দুই ছেলেকে ঢাকায় নিয়ে যান শামীম মিয়া। অন্যদিকে সুমাইয়া তার মায়ের সঙ্গেই থাকতো।
গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে নিজ ঘরে শিশু সুমাইয়ার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে শামীম মিয়া দুই ছেলেকে নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। তারা সুমাইয়ার গলায় কালো চিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এই ঘটনায় সৎ মা শারমিন আক্তারকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন শামীম মিয়ার ছেলে আরমিন ভূইয়া। এই মামলায় শারমিন আক্তারকে গ্রেফতার করে আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
আদালতের আদেশে দুই দিনের রিমান্ডে আনা হলে শারমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে শ্বাসরোধে হত্যার কথা উল্লেখ করে আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে শারমিন জানান, সুমাইয়াকে পড়তে এবং রাতে খাবার খেতে বলায় এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিতণ্ডা হয়। এরই জেরে ক্ষোভে দুই হাত চেপে সুমাইয়াকে হত্যা করেন শারমিন। এই মামলায় শারমিনকে অভিযুক্ত করে তদন্তকারি কর্মকর্তা কসবা থানার উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহবুবুল আলম খোকন জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ড প্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে আদালতের আদেশে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের পর হাজতবাসকালীন সময়টুকু কারাদণ্ডের সময় থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।