এর আগে, স্থানীয় আমির হামজার এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হক স্থিতিবস্থার আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশে গত ৮ এপ্রিল সোমবার রামগতির ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন ঐ ইটভাটায় গিয়ে নোটিশ জারি করেন।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মানষ চন্দ্র দাস এবং রামগতি থানার ওসি (তদন্ত) কার্তিক চন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন। অথচ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে পরের দিন ভোর থেকে পুনরায় কাজ শুরু করে ইটভাটার মালিকপক্ষ।
.png)
রিট সূত্রে জানা গেছে, বেআইনিভাবে স্থাপিত ইটভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষে আমির হামজা গত ১২ মার্চ পিটিশন দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে ২৪ মার্চ উচ্চ আদালতের বিচারপতি নাঈমা হায়দার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হক ইটভাটা কেনো সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হবে না মর্মে রুল জারি করেন এবং ভাটা নির্মাণে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেন।
বিধির শুনানির মুলতবি থাকা অবস্থায়, রামগতি উপজেলার ৬ নম্বর চর আলগী ইউনিয়নে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরনেয়ামত গ্রামের মোহাম্মদ আলী (এমডিএবি) নামে ইট তৈরি এবং ইটভাটা নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে ইটভাটায় সাইনবোর্ড টানিয়ে নোটিশ জারি করেন। এ সময় মালিকপক্ষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার ভোর থেকেই ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আলী আদেশ অমান্য করে পুনরায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ফিল্ড চালান। প্রশাসন তার সঙ্গে আছে, কেউ কিছু করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোহাম্মদ আলীকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে, চার লাখ টাকার বিনিময়ে ফিল্ড আবার চালু করেছে বলে মন্তব্য করেন ফিল্ডের কেরানি সাদ্দাম। পুলিশসহ আরো কাউকে এই টাকা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
উচ্চ আদালতের স্থিতিবস্থা জারি করা আছে, তাহলে কাজ চলমান কেন? এমন প্রশ্নে রামগতি থানার ওসি মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ঈদে অফিস বন্ধ থাকায় সুযোগ নিয়েছেন তারা।
রামগতির ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে ইটভাটাকে সাইনবোর্ড টানিয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এখন কেউ যদি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে, তাহলে এর দায়ভার সেই বহন করবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে থানা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং অফিস খুললে আমরাও ব্যবস্থা নেবো।