নিহত তিন বন্ধু হলেন- কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মৃত নুর হোসেনের ছেলে দীন মোহাম্মদ, একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে রিফাত এবং ইয়াছিনের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন। অপর নিহতরা হলেন- ট্রাক চালক মিজানুর রহমান। তিনি বরিশালের উজিরপুর থানার আবুল হাওলাদারের ছেলে। এছাড়াও ট্রেনের যাত্রী আবুল খায়ের ও তার ছেলে মো. আশিক। তারা কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মনোহরপুর এলাকার বাসিন্দা।
নিহতদের বন্ধু কেফায়েত উল্যাহ বলেন, ঈদের কেনাকাটা করতে চট্টগ্রাম যেতে আমরা শুক্রবার সকালে হাসানপুর স্টেশনে একত্রিত হই। সকাল সাড়ে ৭টায় ট্রেনে উঠি আমরা ১১ জন। ফেনী স্টেশনে যাওয়ার পর আমরা সবাই ট্রেনের সিটে বসে পড়ি। স্টেশনে ছাড়ার পর দীন মোহাম্মদ, রিফাত ও সাজ্জাদ ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে গিয়ে বসে। এরপর ফেনীর ফাজিলপুর এলাকায় একটি বালুর ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা লাগে। এতে আমাদের তিন বন্ধু নিহত হন। পরে ট্রেনটি একটু সামনে গিয়ে দাঁড়ালে আমরা নেমে পড়ি এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি মাইক্রোবাসে করে তিন বন্ধুর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি।
.png)
নিহত সাজ্জাদের বাবা ইয়াছিন বলেন, ভোরে সেহেরি খেয়ে তারা বেরিয়ে যায়। সকালে আমি ঘাস কাটতে মাঠে যাই। মাঠে থাকার সময় দুর্ঘটনার খবর আসে।
প্রতিবেশী মালেক বলেন, জুমার নামাজের আগে তিনজনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চিওড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, আমার এলাকার কয়েকজন যুবক ও কিশোর ঈদের কেনাকাটা করতে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল বলে শুনেছি। ফেনীর ফাজিলপুর এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আমার এলাকার তিনজন নিহত হয়েছেন। বিকেলে জানাজা শেষে একই কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে। তারা সবাই ওয়াকসর্প ও বিভিন্ন দোকানে চাকরি করতো। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কায় প্রথমে দুইজন ও পরে আরো চারজন মারা গেছে বলে জেনেছি। ঘটনার সময় দায়িত্বরত গেটম্যান অনুপস্থিত ছিলেন বলে রেলপুলিশ থেকে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।