ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউপির বাঙালা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুইদিনব্যাপী মেলাটি শুরু হয় রোববার। বাঙালা মুক্তা সংঘের আয়োজনে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলার দ্বিতীয় দিনকে বলা হয় বউ মেলা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেলা উপলক্ষে পয়লা ইউপির মেয়ে আর জামাইকে দাওয়াত করে গ্রামে আনা হয়। তারপর মেলা থেকে জামাইরা বড় বড় মাছ, হরেক রকম মিষ্টি, পান সুপারি কিনে শ্বশুড়বাড়ি যান। আবার মেয়ের বাড়ি থেকেও জামাইদেরকে শ্বশুড়বাড়ি থেকে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় উপহার।
.png)
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলার দ্বিতীয় দিনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলায় মাছ ছাড়াও আসবাবপত্র, বাঁশ-বেত সামগ্রী, লোহা ও মাটির তৈজসপত্র, ফলমূল, নানা ধরনের মিষ্টি, বিন্নি, খৈ, পান-সুপারির দোকান বসেছে। মেলায় ওই ইউপির মানুষ ব্যতিত অন্য গ্রামের নববধূরা তাদের স্বামী নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঘোড়দৌড়, সাইকেল চালানো প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কারের ব্যবস্থাও করা হয়।
এদিকে, মেলায় অর্ধ শতাধিক জেলে নদীর বড় বড় বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, কাতল, পাঙ্গাস, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, চিতল মাছ বিক্রি করেছেন।
মেলায় আসা সালমা আক্তার জানান, মেলার দ্বিতীয় দিন আমার স্বামীকে বাবার বাড়ি এসেছি। তিন বছর আগে আমার বিয়ে হয়েছে। প্রতিবছরই তাকে নিয়ে এ মেলায় আসি। আমাদের এলাকার প্রায় সব মেয়েরাই এ সময় বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন। জামাই মেলা থেকে গ্রামের জামাইরা মাছ ও মিষ্টি বেশি কিনে থাকেন। আবার মেলা শেষ করে চলে যাওয়ার সময় যার যার সাধ্য মতো মেয়ের জামাইকে উপহার দিয়ে থাকেন। এটাই আমাদের ঐতিহ্য।
স্থানীয় চাঁন মিয়া বলেন, আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর আগে। প্রতিবছর এই মেলায় মেয়ে ও জামাতা দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসি। প্রতি বছর মেয়ের জামাইকে উপহার দেই। এ বছর মেয়ের জামাইয়ের জন্য একটি গরু উপহার দিয়েছি।
স্ত্রী, শ্যালিকাদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা প্রবীণ জামাতা আব্দুস সাত্তার বলেন, আমি বাঙালা গ্রামে ৪০ বছর আগে বিয়ে করার পর থেকে এই মেলায় আসি। অনেক আনন্দ হয়। এই মেলাটিই অনুষ্ঠিত হয় আমাদের জন্য।
মেলা পরিচালনা কমিটির পরিচালক মো. কাউসার বলেন, এটি কেবল একটি মেলা নয়, সুদীর্ঘ ইতিহাস। মানুষের মিলনমেলা। পূর্ব পুরুষদের দীর্ঘদিনের এই রীতি ধরে রাখতে পেরে আমরা বাঙালা গ্রামবাসী গর্বিত। এ মেলা কবে থেকে শুরু হয়েছে, তার সঠিক দিনক্ষণ জানা যায়নি। তবে, বিভিন্ন সূত্রমতে জানা গেছে বাঙালার জামাই মেলাটি ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে। ভবিষ্যতেও এই মেলা অব্যাহত থাকবে।