ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অবৈধ পথে আসছে ভারতীয় পণ্য, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১৭:৪৯, ২ এপ্রিল ২০২৪
অবৈধ পথে আসছে ভারতীয় পণ্য, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
অবৈধ পথে আসা পণ্য পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে চোরাকারবারিরা -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তে চোরকারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে ভারতীয় পণ্য অবৈধভাবে নিয়ে এসে জেলা শহর থেকে শুরু করে ছোট ছোট হাট-বাজারে তা বিক্রি করা হচ্ছে। সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত পথে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য পাচার করে নিয়ে আসছে চোরাকারবারিরা। প্রতি বছর এক শ্রেণির চোরাকারবারি এই সময়ের অপেক্ষায় থাকে।

বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য আনা হচ্ছে। বিশেষ করে কলারোয়া সীমান্ত পথে দেদারসে প্রবেশ করছে ভারতীয় পণ্য। দিনে ও রাতের বিভিন্ন সময়ে সীমান্তের চোরাই পয়েন্টগুলো দিয়ে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এতে করে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

ডাঙ্গা সীমান্তে ভারতের তারকাঁটার বেড়া কেটে বা গেট খুলে চোরাচালানি পণ্য বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসছে। আর পানি বর্ডারে ইছামতি ও সোনাই নদী সীমান্তে এসব পণ্য বাংলাদেশে আনার জন্য বেশ কিছু নৌকা নিয়োজিত রয়েছে।

Advertisement

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়া সীমান্তের কেড়াগাছির চারাবাড়ি ঘাট, কুটিবাড়ি ঘাট, রথখোলা ঘাট, গাড়াখালী ঘাট, সোনাবাড়িয়ার দক্ষিণ ভাদিয়ালী ঘাট, ভাদিয়ালী তেঁতুলতলা ঘাট, উত্তর ভাদিয়ালী কামারবাড়ি ঘাট, রাজপুর খা-বাগানের ঘাট, চান্দা স্লুইচ গেট ঘাট, উত্তর বড়ালী ঘাট, চন্দনপুরের হিজলদী ভদ্রশাল ঘাট, হিজলদী শিশুতলা ঘাট, সুলতানপুর ঘাট, সুলতানপুর তালসারি ঘাট, গোয়ালপাড়া ঘাট, চান্দুড়িয়া ঘাট, গাড়ালবাড়ি ঘাট, কাদপুর ঘাট দিয়ে ভারতীয় পণ্য পাচার হয়ে বাংলাদেশে আসছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব ঘাট দিয়ে আসন্ন ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী আসছে। বিশেষ করে নারী-পুরুষের বাহারি নামের পোশাক অন্যতম।

এছাড়াও পেঁয়াজ, রসুন, ছোলা, বুট, বেসন, সয়াবিন বিট, আদা, লবণ, চিড়া, সুজি, জিরা, শাহী জিরা, গোলমরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচি, জয়ফল, জয়ত্রী, আঙুর, আপেল, কমলা, মালটা, নাশপতি, বেদানা, কিশমিশ, চেরিফল, শার্ট পিস, প্যান্ট পিস, জিন্সের প্যান্ট ও শার্ট, রকমারি পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, টু-পিস, জর্জেট শাড়ি, ওড়না, গেঞ্জি, শিশু পোশাক, বালিশের কভার, বেডশিট, তোয়ালে, সিট কাপড়, উন্নতমানের বোম্বে প্রিন্ট শাড়ি, সাউথ ইয়ান সিল্ক, কাতান, বেনারসি, আতর, সুগন্ধি, বডি লোশন, রকমারি ক্রিম, সেভিং লোশন, সেভিং ক্রিম, জুতা, স্যান্ডেল, হাঁড়ি, কড়াই, স্টিলের প্লেট, গ্লাস, বাটি, গামলা, বালতি, কড়ির কাপ, পিরিচ, প্লেট, ডিনার সেট, শিশু খেলনা, সেনেটারি বেসিন, পাইপ, ফ্যান, বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট, এলইডি বাল্ব, ফ্যান, ঘর ওয়ারিং সামগ্রী স্লুইচ, সিলিং রোজ, সকেট, নতুন ও পুরাতন সাইকেল, মোটরসাইকেল আসছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া সীমান্ত খোলা থাকার সুযোগে ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা, ইয়াবা, আফিম, চরস, ভাং, সিদ্ধি, প্যাথেড্রিনসহ নানা প্রকার যৌন উত্তেজক সামগ্রী পাচার হয়ে আসছে।

রাতে এসব পণ্য সীমান্ত সংলগ্ন নির্জন রাস্তায় ট্রাক, পিকআপ অথবা মাইক্রোবাসে করে দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সীমান্তে পণ্য সরবরাহে আগত বিভিন্ন কোম্পানির ডেলিভারি ভ্যানে, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ভরে এসব পণ্য দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অবৈধ পথে আসা পণ্য -পুরোনো ছবিআবার মোটরসাইকেল, ইজিবাইক বা থ্রি-হুইলারে করে এসব পণ্য বাগআচড়া বাজার, বাকড়া বাজার, কলারোয়া বাজার, কেশবপুর বাজার, রাজগঞ্জ বাজার, মনিরামপুর বাজার, নওয়াপাড়া বাজার, পাটকেলঘাট ও চুকনগর বাজারে নেয়া হচ্ছে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাজধানী ঢাকায় পৌঁছে যাচ্ছে ভারতীয় পণ্য। ক্রেতারা সস্তা ও চাকচিক্যময় ভারতীয় পণ্যের প্রতি বেশি আগ্রহী। ফলে অবিক্রিত হয়ে পড়ছে দেশীয় পণ্য। এতে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

কলারোয়ার মাদরা বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার আফজাল হোসেন বলেন, এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অন্য এলাকা দিয়ে ভারতীয় পণ্য আসতে পারে। তবে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কলারোয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড রিফাতুল ইসলাম জানান, চোরকারবারির বিষয়টি জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!