নিহত যুবকের নাম আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রহমতের বিল গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে।
পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিপুল অস্ত্র নিয়ে একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। ঐদিন পালংখালীর রহমতের বিল সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্যদের সঙ্গে অস্ত্রধারী ২৩ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীও অনুপ্রবেশ করছিল। তখন স্থানীয় বাসিন্দারা অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের বাধা দিলে তারা গুলি ছোড়েন। এতে পাঁচজন বাংলাদেশি আহত হন। এর মধ্যে আনোয়ারুল ইসলামও গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আনোয়ারকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। এক মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান।
.png)
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারুল ইসলামের মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আশিকুর রহমান।
উখিয়া থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে উত্তেজনা ও সহিংসতা চলে আসছে। প্রায়ই সেখানে গোলাগুলির পাশাপাশি শক্তিশালী গ্রেনেড বোমা ও মর্টারশেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। সংঘাতের জেরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, বিজিপি, সরকারি কর্মচারীসহ অন্তত ৩৩০ জন নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিলেন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার বাহিনীর সঙ্গে অনুপ্রবেশের সময় পালংখালীর রহমতের বিল সীমান্ত থেকে অস্ত্রসহ ২৩ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করে বিজিবি। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে গ্রেফতারকৃত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় অনুপ্রবেশ ও অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। ২৩ রোহিঙ্গা এখন কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছে।