কিশোরী সৎ বোনকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহব্যবসা, ভাই-ভাবি কারাগারে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সৎ ভাই-ভাবির বিরুদ্ধে ১২ বছরের সৎ বোনকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাদী হয়ে কসবা থানায় পাঁচজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
ওই দিনই সন্ধ্যায় ছেলে সোলেমান মিয়া ও পুত্রবধূ সেলিনা আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, ওই কিশোরীর বাবা দুইটি বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান ওই ভুক্তভোগী কিশোরী। প্রথম স্ত্রীর সংসারে সোলেমান মিয়া নামে তার এক ছেলে রয়েছে। তিনি কসবা সুপার মার্কেটের সামনে ফুটপাতে চায়ের দোকান চালান ও শহরের শীতল পাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। দুইমাস আগে ছেলে সোলেমান হঠাৎ করে গ্রামের বাড়ি গিয়ে তার সৎ ছোট বোনকে শহরের বাসায় নিয়ে আসে।
তখন জানানো হয়, ছোট বোনকে লেখাপড়া করানোসহ বিয়ে দেওয়ার সব ব্যবস্থা করবে। বাবা সরল বিশ্বাসে বড় ছেলের সঙ্গে মেয়েকে তার বাসায় পাঠিয়ে দেয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার সময় কিশোরী গ্রামের বাড়ি হরিপুরে বাবার কাছে চলে যায়। এত রাতে একা চলে আসার কারণ জানতে চাইলে সে তখন কিছুই বলেনি।
পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সোলায়মান আবার তার সৎ বোনকে আনতে গ্রামের বাড়ি যায়। তখন কিশোরী ভাইয়ের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় কারণ জানতে চাইলে সে জানায়, গত দুমাস ধরে ওই বাসায় রাতের বেলায় বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে তাকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়েছে। সে এসব কাজ করতে রাজি না হলে তাকে মারধর করা হতো। তাই সে রাতের আঁধারে পালিয়ে বাড়িতে চলে এসেছে।
পরে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার শরীরে মারধরের চিহ্ন পাওয়া যায়। মঙ্গলবার বিকেলে থানায় এসে ছেলে ও বউসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
শিশুর বাবা মোশারফ হোসেন জানান, ভাই-ভাবি হয়ে ছোট বোনের এমন সর্বনাশ করবে ভাবতেও পারিনি। পরিবারে অভাব-অনটনের কারণে সরল বিশ্বাসে ছেলের বাসায় পাঠিয়েছিলাম।
কসবা থানার ওসি রাজু আহাম্মেদ জানান, কিশোরীটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার ডাক্তারি পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন।