৪০ দিন জামাআতে নামাজ আদায় করে বাইসাইকেল পেল ১৪ শিশু
শিশুদের মসজিদমুখী করা এবং নিয়মিত জামাআতে নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের পশ্চিম মসূয়া গ্রামের প্রবাসী ও স্থানীয় যুবকেরা। টানা ৪০ দিন জামাআতে নামাজ আদায়ের শর্ত পূরণ করে ১৪ শিশু পেয়েছে বাইসাইকেল। এ ছাড়া আরও পাঁচ শিশুকে দেওয়া হয়েছে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে টেবিল লাইট।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে পশ্চিম মসূয়া বাইতুল আকসা জামে মসজিদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
শিমুহা আব্দুল মাজিদ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মসূয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও নূর হুসাইল আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আমিনুল ইসলাম।
বাইতুল আকসা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা তানযীল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মসূয়া উমর বিন খাত্তাব (রা.) জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জহিরুল ইসলাম তিতাস, আছিমুন্নেছা ইসলামিক শিক্ষা ইনস্টিটিউট সালাফিয়্যাহ কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা রাকিবুল হাসান এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রভাষক মো. আল-আমিন হুসাইন। এ সময় স্থানীয় আলেম-ওলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু শিশুদের পুরস্কৃত করা নয়; বরং ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলা, ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং মসজিদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি করা। টানা ৪০ দিন জামাআতে নামাজ আদায়ের এ কর্মসূচি শিশুদের মধ্যে নামাজের প্রতি আগ্রহ ও নিয়মিত মসজিদে আসার অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
এলাকাবাসী মনে করেন, শিশুদের ধর্মীয় অনুশীলনে উৎসাহিত করতে এমন উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রবাসে থেকেও এলাকার শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে প্রবাসীদের সহযোগিতা প্রশংসনীয়।
পশ্চিম মসূয়া গ্রামের এ উদ্যোগ অন্য এলাকার মসজিদগুলোতেও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের মধ্য দিয়ে শিশুদের মনে নামাজের প্রতি যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে তাদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে।