চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর শহরের মোবারকপাড়ার মধ্যবিত্ত পরিবার পেয়ারী খানম ও মনির খন্দকার দম্পতির ছোট মেয়ে শিশু আরাবি। বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর মা স্কুলশিক্ষিকা।
আরাবির বাবা-মা বলেন, বছর দুই আগেও মেয়ে সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি আরাবি পড়াশুনায় ছিল মনোযোগী। পুরোপুরি সুস্থ সবল ও দূরন্ত আরাবির জীবনে কাল হয়ে আসে এক সময়ের জ্বর। দীর্ঘদিনের জ্বরে দুর্বল হয়ে পড়ে আরাবির শরীর। দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করিয়েও মেলেনি কোনো ফল। সহায় সম্বল হারিয়েও রোগ শনাক্তে ব্যর্থ হয় মধ্যবিত্ত এই পরিবারটি।
.png)
পরে ছয় দফায় ভারতে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বিরল এ রোগের উপস্থিতি মেলে শিশু আরাবির শরীরে। যার একমাত্র চিকিৎসা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশান।
শিশু আরাবির রোগ শনাক্তের পেছনেই ব্যয় হয়েছে অন্তত ১৩ লাখ টাকা। এখন তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৪০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। আর চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া আসা চিকিৎসা খরচসহ দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করতে আরো ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ হবে। সবমিলিয়ে প্রায় এক কেটি টাকার প্রয়োজন। যা বহন করা আমাদের এই ছোট্ট পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।
আরাবির স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিকাশ কুমার দত্ত বলেন, আরাবি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। ছোট্ট শিশুর এই বিরল রোগের কথা শুনে আমি খুব মর্মাহত হয়েছি। আরাবি লেখা পড়ার পাশাপাশি আঁকতে খুব পছন্দ করে। লেখাপড়ায় সে ১ থেকে ২ এর মধ্যে থাকে। শিক্ষক হিসেবে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আমার আহ্বান শিশু আরাবিকে বাঁচাতে আপনারা সহযোগিতা করুন। আমি তার জন্য দোয়া করি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারো ফিরে আসুক স্কুলে।
আরাবির মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার মেয়ে হাসিখুশিতে ভরা, দূরন্ত চঞ্চল মেধাবী শিশু আরাবি আবারো ফিরতে চায় স্কুলে। নিয়মিত হতে চায় পড়ালেখায়। সবার সঙ্গে হাসতে চায়, নতুন করে বাঁচতে চায়। মেয়েকে বাঁচাতে দেশ-বিদেশের সব ভাই বোনদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আপনাদের সামান্য কিছু টাকায় আমার ছোট্ট মেয়েটা ফিরে পাবে নতুন জীবন।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যান্সার সার্জারি বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. মো. একরামুল হক জোয়ার্দ্দার জানান, ইমিউন ডিজরেগুলেশন উইথ সিসটেমিক হাইপার ইনফ্লামেশন সিনড্রোম ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তির হাতে কোনো কিছুর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এর একমাত্র চিকিৎসা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশান।