ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

এবার টনসিল অপারেশন করতে গিয়ে লাইফ সাপোর্টে শিশু, অতঃপর...

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৪৭, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
এবার টনসিল অপারেশন করতে গিয়ে লাইফ সাপোর্টে শিশু, অতঃপর...
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেদায়েত উল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

এবার চাঁদপুরের ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতাল ও হেলথ কেয়ার ফিজিওথেরাপি সেন্টারে টনসিল অপারেশন করতে গিয়ে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে ১০ বছরের শিশু তাহসিন আক্তার। ঘটনাটি গোপনে থাকলেও এক সপ্তাহ পরে প্রশাসনের নজরে আসে। এতে নড়েচড়ে বসে চাঁদপুরের প্রশাসন। অবশেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেদায়েত উল্লাহ।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ কার্যক্রম প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে শহরের ফ্যামিলি কেয়ার হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে ওই ক্লিনিকের বেশকিছু গাফিলতি পরিলক্ষিত হয়।

Advertisement

তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে ব্লাড ব্যাংক না হওয়া সত্ত্বেও তাদের ফ্রিজে এক ব্যাগ ব্লাড সংরক্ষণ করেছে। এক্স–রে রুম ওটি রুমসহ অন্যান্য রুম অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখা যায়। সার্বিক বিবেচনায় হাসপাতালের পরিচালককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও আদায় করা হয়।

অভিযানে প্রসিকিউশন কর্মকর্তা ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডা. মো. সাখাওয়াত এবং সহযোগিতা করেন সদর মডেল থানা-পুলিশের একটি দল।

জানা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের রালদিয়া গ্রামের প্রবাসী মো. সবুজ খানের মেয়ে তাহসিন টনসিলের সমস্যার কারণে চাঁদপুরের নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এএইচএম ফেরদৌস নূরকে দেখান। চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ওই হাসপাতালে শিশুটির টনসিল অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পরে জটিলতা দেখা দিলে বিষয়টি গোপন রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই শিশুকে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের আইসিইউয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখে। বর্তমানে ওই শিশু জীবন–মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

ঘটনার দিনই চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির চাচা মো. ফরহাদ খান। জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই আজাদ। জিডির পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিলেও অপারেশন ও অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে থাকা ডা. ফেরদৌস নূর ও ডা. আবির কোনো খোঁজ নেননি। উল্টো রোগীর স্বজনরা তাদের খুঁজে পাচ্ছেন না।

চাঁদপুর মডেল থানার এসআই আজাদ বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টির  তদন্ত চলছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: চাঁদপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!