বুধবার সকাল থেকে সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। প্রিয়জনের সঙ্গে বিশেষ মুহূর্ত কাটাতে সৈকতে ভিড় করেছেন লাখো ভ্রমণপিপাসু। বসন্ত ও ভালবাসা দিবসে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দারুণ খুশি পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যেমতে, বসন্ত আর ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে সাগরের নীল জলরাশি ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন অন্তত লক্ষাধিক পর্যটক।
.png)
কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে, কেউ বাবা-মা আর কেউবা প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে ছুটে এসেছেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র নগরী কক্সবাজার। সৈকতের বালিয়াড়িতে বসে সময় কাটানো, সমুদ্র স্নান, বিকেলে প্রিয়জনের পাশে দাঁড়িয়ে সুর্যাস্ত অবলোকনসহ প্রিয়সব মুহূর্ত যেন রঙিন হয়ে উঠেছে ভালোবাসা আর বাসন্তীর রঙে।
দিনাজপুর থেকে ঘুরতে আসা সাবিনা আক্তার বলেন, স্বামীকে নিয়ে ভালবাসা দিবস উদযাপন করার জন্যে কক্সবাজার চলে এলাম৷ বিয়ের পর এবার আমরা কক্সবাজারে প্রথম এসেছি। এখানকার পরিবেশ ও আবহাওয়া বেশ ভালো।
ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক হাসান আলী বলেন, প্রতিবছর শীত মৌসুমে সমুদ্রসৈকতে প্রায় বন্ধু-বান্ধবরা বেড়াতে আসেন। কিন্তু কর্মব্যস্ততার কারণে কক্সবাজারে খুব একটা আসা হয় না। তাই এ ধরনের বিশেষ দিনগুলোতে অন্তত সৈকতের নরম বালু আর লোনাজলে পা ভেজানোর জন্য চলে এসেছি। চারিদিকে যেন ভালোবাসার রঙ লেগে আছে। আসলেই খুব ভালো লাগছে।
ঢাকার উত্তরা থেকে আসা মিজানুর রহমান বলেন, আজ ভালোবাসা দিবস এবং বসন্তের প্রথম দিন। কিন্তু আমাদের জন্য এই দিনটি আরো স্পেশাল। কারণ চার বছর আগে এই দিনে আমাদের বিয়ে হয়েছিল। তাই বিশেষ দিনে প্রিয়জনের সঙ্গে বিশেষ একটি জায়গায় ঘুরে বেড়ানো, সময় কাটানো আসলেই আমার কাছে অন্যরকম অনুভূতি। সত্যিই ভালো লাগছে।
ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া, ঘুরে বেড়ানো আসলেই বিষয়টি খুবই আনন্দের। আর জায়গাটি যদি হয় এই সমুদ্রসৈকতের মতো সুন্দর, তাহলে বুঝতেই পারছেন অনুভূতিটা কেমন হবে। এভাবেই বলছিলেন ঢাকার সাভার থেকে আসা পর্যটক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এদিকে ভালোবাসা দিবস ও বসন্তকে ঘিরে কক্সবাজারের প্রায় চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে পড়েছে বাড়তি চাপ। সব হোটেলেই ৮৫ ভাগেরও বেশি রুম আগে থেকেই বুকিং হয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো হোটেলে বিশেষ এই দিন উপলক্ষে ৫০ শতাংশ ছাড়সহ পর্যটকদের জন্য রাখা হয়েছে নানা আয়োজন।
হোটেল রয়েল বিচ রিসোর্টের পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, পর্যটকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগত পর্যটকদের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও সৈকতসহ আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের আগমন ও স্থানীয়দের পদচারণা নিরাপদ করতে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশ কাজ করছে।