ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মাটিরাঙ্গায় যত্রতত্র বর্জ্য, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি)
প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
মাটিরাঙ্গায় যত্রতত্র বর্জ্য, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার পৌর এলাকায় পথ চলতে পাশে চোখে পড়ে ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধে চলা মুশকিল। আশপাশের দোকান ও বসতবাড়ির ময়লাও ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধকে পাশ কাটিয়ে চলছে জনসাধারণ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

বর্জ্য রাখার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এলোমেলোভাবে ময়লা ফেলানোর ফলে সেগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছি ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। এসব ময়লা-আবর্জনা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে অপসারণ না করলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসহ বাড়বে জনভোগান্তি।

মাটিরাঙ্গা পুরো পৌর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে আবর্জনা। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন বা নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় অনেকে যত্রতত্র ময়লা ফেলে রাখে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সম্পূর্ণভাবে এসব বর্জ্য পরিষ্কার না করার কারণে পৌর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য দেখা যায়। তাছাড়া মাটিরাঙ্গা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থাকলেও নিজ উদ্যোগে পরিষ্কারের দায়িত্ব নেয়নি কেউ।

Advertisement

সচেতন মহলের অভিযোগ, এভাবে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় নষ্ট হচ্ছে পৌরসভার সৌন্দর্য। একইসঙ্গে দূষণ হচ্ছে পরিবেশ। বিষয়টিকে দৃষ্টিকটু ও উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন অনেকে। পৌর এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ না নেয়া কর্তৃপক্ষের দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তারা।

তাদের মতে, মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকায় সংগৃহীত বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জৈব সার উৎপাদন করা সম্ভব। আহরিত বর্জ্য যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিণত হতে পারে মূল্যবান সম্পদে।

রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপসরেজমিনে দেখা যায়, মাটিরাঙ্গায় পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। মাটিরাঙ্গায় স্থাপিত জেলা পরিষদের বিশ্রামাগারে অভ্যন্তরের আশপাশের হোটেলের বর্জ্যসহ বিভিন্ন স্থানের ময়লা ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব ময়লা ফেলানোর ফলে বর্জ্যের একটি বিশাল স্তূপ হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে পরিবেশের খুবই ক্ষতি হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ। 

তাছাড়া মাটিরাঙ্গা থানার নিচের মোড়ে পড়ে আছে ময়লার বিশাল স্তূপ। কত বছর থেকে এ স্থানে ময়লা ফেলানো হচ্ছে সেটা ঠিক করে কেউ বলতে পারছেন না। এদিকে, চৌধুরীপাড়ায় যাওয়ার মোড়ে, ঈদগাঁর সামনের রাস্তায়, তরকারি বাজারের প্রবেশদ্বারে পড়ে রয়েছে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, নষ্ট তরকারি, নষ্ট ফল, কাগজের প্যাকেট, কেক-মিষ্টির বক্স, ওয়ানটাইম কাপ, বাদামের খোসাসহ নানা ধরনের উচ্ছিষ্ট। তাছাড়া মাটিরাঙ্গা পৌর খাল তো ময়লাময় হয়ে আছে বেশ কয়েক যুগ আগ থেকেই।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এক বছর আগে পৌরসভার মাসিক সমন্বয় সভায় পৌরসভা এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য ৬০টি ডাস্টবিনের চাহিদা দেওয়া হলেও ফান্ড স্বল্পতার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তাছাড়া গত ডিসেম্বর মাসে মাসিক সমন্বয় সভায় Local Government COVID-19 Response & Recovery Project (LGCRRP) প্রকল্পের অর্থায়নে মাটিরাঙ্গা পৌরসভা বাস্তবায়নে ৩টি স্থানে স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। 

একটি মাটিরাঙ্গা বালিক উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন, অন্যটি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদ সেক্রেটারির বাড়ির পাশে। বাকি ডাস্টবিনটি মাটিরাঙ্গা উপজেলা পোস্ট অফিসের পাশে বাবুপাড়া রাস্তা মাথায় স্থাপন করা হলেও এসব ডাস্টবিন প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকায় নারী-পুরুষসহ পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১০ জন। সাপ্তাহে ছয়দিন কাজ করেন তারা। তার মধ্যে চারদিন পৌর সদর বা বাজার এলাকায় বাকি দুইদিন হাসপাতাল, থানা ও সেনা জোন এলাকায় বর্জ্য অপসারণের কাজ করেন।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার পরিছন্ন পরিদর্শক মামুনুর রশিদ জানান, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন ছিল ১২০টি। ময়লা-আবর্জনা পরিবহনের জন্য দুটি পিকআপ ও দুটি ভ্যান রয়েছে। বর্তমানে ৪০টির মতো ডাস্টবিন থাকলেও বাকি ডাস্টবিনগুলো চুরি বা নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

মাটিরাঙ্গা বাজারের তরকারি ব্যবসায়ী লিটন বলেন, আগে অনেকগুলো ডাস্টবিন ছিল যেখানে আমরা নিয়মিত তরকারির বর্জ্য ফেলতাম। এখন ডাস্টবিনগুলো পুরাতন হওয়ার কারণে সেগুলো ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। আর নষ্ট হয়ে যাওয়া ডাস্টবিনগুলো রাতের আঁধারে কই গেছে সেটার কোনো হদিস নেই। তাই আমাদের ময়লা ফেলতে সমস্যা হয়।

মাটিরাঙ্গা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি বাবুল চন্দ্র বণিক বলেন, অনেক আগে বর্জ্য-ব্যস্থাপনায় ইউএনডিপি কর্তৃক পৌরসভা একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সব বর্জ্য একস্থানে রেখে জৈব সার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

ময়লার স্তূপমাটিরাঙ্গা ভাতঘরের ম্যানাজার মো. হাসান বলেন, এখানে ময়লা ফেলানোর জন্য কোনো ডাস্টবিন না থাকায় আমরা ময়লাগুলো রাস্তার পাশে (জেলা পরিষদের বিশ্রামাগার) ফেলে দেই। শুধু আমি নই অনেকেই তো এখানে ময়লা ফেলে। এখানে ডাস্টবিন থাকলে আমরা ডাস্টবিনেই ময়লা রাখতাম। বাইরে ফেলতাম না।

বিডি ক্লিনের মাটিরাঙ্গা উপজেলা সমন্বয়ক এমএ সিদ্দিক বলেন, বিডি ক্লিনের মাটিরাঙ্গা উপজেলা টিমটি অগোছালো। তাই দ্রুত টিমটি গুছিয়ে মাটিরাঙ্গায় স্কুল ক্যাম্পেইন থেকে শুরু করে পৌর এলাকা পরিষ্কার রাখাসহ জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে শুরু করবো।

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার পেনেল মেয়র-১ মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রতি গলির মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। জনসচেতনতার অভাবে জনদূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে। পৌরবাসী সচেতন নয়। তারা ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে রাখেন না। তাদের বার বার সতর্ক করে দেওয়া হলেও নিয়ম মানছেন না তারা।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তী বলেন, মাটিরাঙ্গায় বর্জ্য অব্যবস্থাপনার দায় পৌর কর্তৃপক্ষের। এখা‌নে উপ‌জেলা প্রশাস‌নে কিছু করার নেই। ত‌বে যথাস্থানে বর্জ্য অপসার‌ণে পৌর মেয়রকে অনু‌রোধ কর‌তে পারেন বলে তিনি জানান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!