বর্তমানে লক্ষ্মীপুর শহরের ৬নং ওয়ার্ড শিল্পী কলোনী মোড়ে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান পোশাক ঘর। তার এ প্রতিষ্ঠানে স্কুল-কলেজের মেয়েরা পড়াশুনার পাশাপাশি অবসর সময়ে কাজ শিখছেন এবং অর্থ উপার্জন করতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন। তার এ প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমাধারী নারী ফ্যাশন ডিজাইনার দ্বারা জামা-কাপড়ের ডিজাইন ও সেলাই করা হয়। তার এ প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ নারীদের দ্বারা পরিচালিত হয়। বর্তমানে তার এ প্রতিষ্ঠানে চারজন কাজ করছেন।
লক্ষ্য অর্জনে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তার যাত্রা ছিল অদম্য। নিজ প্রতিষ্ঠান পোশাক ঘর তৈরিতে তিনি অনুপ্রেরণা পান দুই বোন ও তার স্বামীর কাছ থেকে। ব্যবসার শুরুতে তার তার স্বামী রাজু আহম্মেদ, দুই বোন ও দুই বোনের স্বামী এবং লাইবেরিয়া প্রবাসী তার ভাই অর্থের যোগান দেন। তার দুই বোনও সেই প্রতিষ্ঠানে সময় দেন। এক বোন বুটিকের কাজে ও অন্যজন এ্যাম্ব্রয়ডারী ও পাঞ্জাবির গলার কাজে তাকে সহযোগিতা করেন।
.png)
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে জন্ম হলেও ময়নার বেড়ে উঠা, পড়ালেখা সবকিছুই হয়েছে চট্রগ্রামে। ছাত্রজীবনে আড়ং কোম্পানিতে সেলসম্যান হিসেবে চাকরির সুবাদে সেখান থেকেই ক্রেতা সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি হয়। বাস্তবতার নিরিখে বাজার চাহিদা ও শহরে মানুষের রুচি ও ফ্যাশন সম্পর্কে ধারণা নেন তিনি। প্রশিক্ষণ গ্রহণ হিসেবে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাশন টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা কোর্স, কম্পিউটার অফিস প্রোগ্রাম কোর্সসহ মোম, চানাচুর তৈরির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করতে হবে এটাই ছিল তার লক্ষ্য। দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে রঙ ও বৈচিত্র্যে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছেন তিনি। ২০১৫ সালে বিয়ের পর চট্টগ্রাম থেকে স্বপরিবারে লক্ষ্মীপুর চলে আসেন ময়না।
সাফল্যের সে গল্প নিয়ে কথা বলেছেন ফাতেহা বেগম ময়না। তিনি জানান, প্রতি মাসে তার আয় হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তবে পোশাক তৈরির বিভিন্ন ডাইস লক্ষ্মীপুরে না থাকায় কাজে খুব বেগ পাওয়ার কথা জানান তিনি। এছাড়া বুটিকের বিভিন্ন মেডিসিন ঢাকা থেকে আনতে হলে যাতায়াত খরচ দিয়ে ব্যবসা করা কষ্টসাধ্য।
এদিকে ময়না আক্ষেপ করে বলেন, মফস্বলে মানুষের মন মানসিকতা এখনো পাল্টায়নি। রীতিমতো দোকানে এসে প্রশ্ন করেন, কলেজে চাকরি করেন পাশাপাশি এটা কেন? এত টাকা কী করবেন? আরো কতো কী। বাচ্চারা যেমন মায়েদের আঁচল ধরে পেছন দিকে টানে আমাদের সমাজের পুরুষরা নানা কটূক্তি করে নারীদের ব্যবসায় নিরুৎসাহিত করে পেছনের দিকে টানতে চান।
নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রেতাদের পছন্দের সেরাটাই দোকানে রাখতে চান তিনি। তিনি মনে করেন, স্টাইলটা সম্পূর্ণ নিজের। শখ এবং সাধ্যের মধ্যে যেন গ্রাহক কেনাকাটা করতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য রাখেন ময়না।
সফল উদ্যোক্তা ফাতেহা বেগম ময়না আরো বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তাকে বিচক্ষণ হতে হয়। সংসার, সন্তানকে দেখাশোনার পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের খেয়াল রাখতে হয়। পরিবারের পাশাপাশি ব্যবসার প্রতিও আন্তরিক হওয়ার কথা জানান তিনি। কুসংস্কার আর মানুষের কথাকে ভয় না পেলে শত বাধা সত্ত্বেও সমাজে তিনি সফল হতে পারেন। ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলাফেরা ও কাজ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।