শনিবার বিকেলে লাশ দুইটি উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। মৃত রেজাউল করিম মধু কুষ্টিয়া পৌরসভার আলফা মোড় এলাকার বিষ্ণুপদ রায়ের ছেলে। তিনি কয়েক বছর আগে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পেশায় স্বর্ণকার ছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় আট বছর আগে রেজাউল করিম মধু ধর্মান্তরিত হয়ে মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আসাদুল মণ্ডলের মেয়ে শেফালি খাতুনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তার নাম ছিল মধুসূদন রায়। স্ত্রী অসুস্থ থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে রেজাউল আলফা মোড়ের শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
.png)
মধু শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ছেলে মুগ্ধকে নিয়ে হরেকৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সন্তানকে নিয়ে ফিরে না আসায় মা শেফালি পাশেই তাদের ভাড়া বাসায় আসেন। ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। এরপর কোনো সাড়া না পেয়ে জানালার ছিদ্র দিয়ে দেখতে পান তার স্বামী ও সন্তান ঘরের মধ্যে একই রশিতে ঝুলে আছে। পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শেখ সোহেল রানা বলেন, এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। ছেলেকে হত্যার পর বাবা আত্মহত্যা করতে পারেন।
স্বজনদের বরাত দিয়ে ওসি জানান, রেজাউল ধর্মান্তরিত হওয়ার পর থেকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনী নিয়ে বেশ জটিলতায় ভুগছিলেন। এজন্য তার ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারেননি। এ নিয়ে তার বেশ ক্ষোভ ছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে জানা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু আনছার বলেন, এরকম বিষয় নিয়ে আমার কাছে কেউ কোনো সময় আসেননি। আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে এখানে জটিলতার কোনো সুযোগ নেই। তাই কে কীভাবে এরকম অভিযোগ করছেন সেটা আমি বলতে পারবো না।