বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সরিষা ক্ষেত দেখতে আসছেন এবং ক্ষেতের ছবি তুলছেন। এবার কৃষি বিভাগ থেকে সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করায় আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। কৃষকদের মাঝে সরিষা বীজ, ড্যাপ সার ও এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগ বলেছে, সরিষা চাষিদের সর্বাত্মক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চাষিদের সরকারি প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে চাষিরা বলছেন, সরিষা চাষে তারা কৃষি বিভাগ থেকে বীজ এবং সার পেয়েছেন। আর চাষাবাদে অন্যান্য ফসলের চেয়ে খরচ এবং শ্রম কম লাগে। এদিকে সরিষার ফুল চাষি এবং লোকজনের কাছে আর্কষণীয় হওয়ায় অনেকে শখের বশেও আবাদ করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসেবে, গত মৌসুমে জেলায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এবার সরিষার আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার হেক্টর। গত বছরের চেয়ে দুই গুণ। এরমধ্যে প্রতি বছরের ন্যায় রায়পুরে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। এই উপজেলার চাষিরা প্রায় ১৪শ’ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষাবাদ করেছেন। এছাড়া সদর উপজেলার ৬৫০ হেক্টর, কমলনগরের ৩০০ হেক্টর, রামগঞ্জে ২৫০ হেক্টর, রামগতিতে ৩১০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
.png)
কৃষকরা জানান, সরিষা লাভজনক ফসল। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে ক্ষেত থেকে ফলন উঠে। আমন ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গেই তারা জমি চাষ দিয়ে বীজ বপন করেছেন। সরিষা উঠে গেলে ওই জমিতে সয়াবিন বা ডাল জাতীয় শস্য আবাদ করতে পারবেন। তাই এ সময়ে অন্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষাবাদকে তারা উত্তম মনে করছেন। চাষাবাদে তারা বীজ এবং সার সরকারিভাবে পেয়েছেন।
চাষিরা জানান, উঁচু জমি সরিষা চাষের জন্য উপযুক্ত। প্রথমে হালকাভাবে চাষ করে সরিষার বীজ বপন করতে হয়। পরে দু-এক বার কিছু ওষুধ ও কীটনাশক দিলেই সহজে ফলন ভালো হয়। তুলনামূলক কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় দিনদিন সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে এ অঞ্চলের কৃষকদের।
কৃষকরা বলছেন, কয়েক বছর আগেও তাদের জমি পরিত্যক্ত থাকতো, কিন্তু বর্তমানে কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা এখন জমিতে সরিষা চাষ করছেন। ফলন দেখে মনে হচ্ছে, গতবারের চেয়ে উৎপাদন আরো বেশি হবে। সে কারণে এবার বেশি লাভের আশা করছেন তারা। জেলায় সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন এলাকার নবী উল্যা জানান, ৩৩ শতাংশ জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকার মতো। গাছে গাছে ফুলে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। এ অঞ্চলে এবার সরিষার ফলন ভালো দেখা যাচ্ছে।
মো. সোহেল হোসেন নামে আরেক সরিষা চাষি জানান, তিনি ১ একর ৬০ শতাংশ জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। এতে ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার টাকা। এবার তার চাষাবাদ ভালো হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, জেলায় এবার অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের পরামর্শ এবং সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সময়মতো তাদের সার-বীজ দেওয়ায় তারা সেটি কাজে লাগিয়েছেন। তাই ফলনও ভালো হয়েছে।