ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

খেজুর রসে তৃপ্তির ঢেকুর

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১৯:১০, ২০ জানুয়ারি ২০২৪
খেজুর রসে তৃপ্তির ঢেকুর
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শীত মৌসুম এলেই ব্যস্ততা শুরু হয় লক্ষ্মীপুরের গ্রামের প্রান্তিক গাছিদের। পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের চলে বিভিন্ন রসের পার্টি। শীতের শুরুতে খেজুর গাছ কেটে পরিষ্কার করে রাখা হয়। প্রতিটি খেজুরের রসের কলস পানি দিয়ে পরিষ্কার করার পর খেজুর গাছের সঙ্গে লাগানো হয়। এরপর সারা রাতে খেজুরের রস দিয়ে কলস ভর্তি হয়ে যায়। আগের দিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করা হয়। রস সংগ্রহের জন্য শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত থাকে গাছিরা। আবার শীত ভারী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু রস সংগ্রহ। 

গত কয়েকদিন ধরেই গ্রামে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। আর শীতের মাত্রা বেশি হলেই খেজুর রস আরো বেশি সুমিষ্ট হয়। তাই গ্রামগঞ্জে চলে রস সংগ্রহ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো বিভিন্ন স্থানে চলছে খেজুর রসের পিন্নি পার্টি। গ্রামের ভাষায় বলা হয় সিন্নি। খেজুর রস কেন্দ্রিক প্রতি বছর এমন মৌসুমে লাভবান হচ্ছে গাছিরা। নির্দিষ্ট কোনো খেজুর বাগান না থাকলেও সংরক্ষিত খেজুর গাছ একমাত্র ভরসা তাদের।

এছাড়া বাড়ির আঙিনায় সড়কের পাশে কিংবা খাল পাড়ে ও নদীর পাড়ে থাকা খেজুর গাছগুলো খুব যত্নে রাখা হয়। যাতে বছর ঘুরে এলেই রস সংগ্রহ করা যায়। প্রতি রসের হাড়ি বিক্রি হয় প্রকারভেদে ২৫০ টাকা থেকে সাড়ে তিনশ টাকা। এরমধ্যে ছোট বড় কল রসের হাড়ি আলাদা আলাদা দাম।

Advertisement

কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে দূর-দূরন্ত থেকে সংগ্রহ করা হয় এসব রস। সূর্যোদয়ের আগেই গাছি প্রতিটি খেজুর গাছে উঠে খেজুরের রস ভর্তি কলস নামিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়।

লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের দত্তপাড়া ইউপির করইতলা গ্রামে গ্রামে রাস্তার দুই পাশে খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে থাকে স্থানীয় গাছিরা। এছাড়া জেলার কমলনগর, রামগতি, রায়পুর ও রামগঞ্জেও বিভিন্ন এলাকায় খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করা হচ্ছে।

শীত আসলেই এসব রসের কদর বেড়ে যায়। নিজ উদ্যোগে যুবকরা রস সংগ্রহ করে বিভিন্ন পার্টিতে অংশ নেয় তারা। খেজুর রসের স্বাদটাই আলাদা। তাই সবসময় কদর থাকে এবং গুরুত্ব থাকে।

তবে সবচেয়ে বেশি খেজুর গাছ রয়েছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। নদীর পাড়ে পাড়ে দেখা যায় এসব গাছ। গাছিরা রস সংগ্রহ করে এসব গাছ থেকে।

গাছিরা বলছেন, শীতের শুরুতে গাছ কেটে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখেন তারা। পরে এসব গাছে কষ ছেড়ে গেলে বসানো হয় বাঁশের কঞ্চি বা বাশের পাইপ। রাতে মাটির হাড়ি বসে দিয়ে সকালে সংগ্রহ করে রস। এসব রস বাজারে বিক্রি করে আবার কেউ কেউ গাছের নিচে এসে সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।

এদিকে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চলছে পিন্নি পার্টি। গাছের রস সংগ্রহ করে কয়েকজন বন্ধু মিলে চলে পিন্নি পার্টি। কনকনে শীতে পিন্নি খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলে সবাই।

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রচলিত খাদ্য হিসেবে খেজুর রস বেশ পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু। এতে আয়রন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদানের পাশাপাশি প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও গ্লুকোজসহ প্রচুর ভিটামিনের পুষ্টিগুণ রয়েছে, যা অনেকটা প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংকের মতো কাজ করে। তাই শরীরে দুর্বলভাব কাটিয়ে কর্মচঞ্চলতা ফেরাতে দারুণভাবে কাজ করে খেজুরের রস।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!