ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

লক্ষ্মীপুরের জুতা যাচ্ছে ৪০ দেশে 

শাকের মোহাম্মদ রাসেল, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ২০ জানুয়ারি ২০২৪
লক্ষ্মীপুরের জুতা যাচ্ছে ৪০ দেশে 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় উৎপাদিত বেঙ্গল স্যু রফতানি হচ্ছে বিশ্বের ৪০টি দেশে। প্রত্যন্ত গ্রামের তিন হাজার নারী-পুরুষ কাজ করছেন শতভাগ রফতানিমুখী চামড়াজাত এ প্রতিষ্ঠানটিতে।  

বেঙ্গল স্যু তৈরির কারিগররা তিনটি শিফটে কাজ করেন। রাত দিন ২৪ ঘণ্টা চলে তাদের কর্মযজ্ঞ। উৎপাদিত হয় হাজার হাজার চামড়ার জুতা। প্রতিদিন ৫ হাজার জুতা উৎপাদন হয় এ কারখানায়। ফলে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার বেকার নারী-পুরুষের। 

শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন, নিজস্ব পরিবহনে যাতায়াত, দুপুরের খাবার ও ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ শ্রমিক বান্ধব পরিবেশেই কারখানায় কাজ করতে পারছেন। এতে প্রতিটি পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরেছে। উৎপাদিত পণ্য নিয়মিত জার্মানী, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, বেলিজিয়াম, কানাডা, ব্রাজিল ও জাপানসহ প্রায় ৪০ দেশে রফতানি হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। গুণগত মান সঠিক থাকায় বিশ্বে দিন দিন লক্ষ্মীপুরের বেঙ্গল স্যুর চাহিদা বেড়েই চলছে।

Advertisement

জেলার রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউপির রাখালিয়া এলাকায় ১৬ একর জায়গাজুড়ে বেঙ্গল স্যু’র অবস্থান। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজ নামের প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনে যায় ২০১১ সালে। এর আগে ইন্ডাস্ট্রিজটির নাম ছিল নোয়াখালী টেক্সটাইল মিল। 

১৯৭৮ সালে এটি সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্রমাগত লোকসানে পড়ে ১৯৯৩ সালে বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। ২০০৪ সালে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কারখানাটি কিনে নেন রায়পুরের বাসিন্দা আলী হায়দার চৌধুরী। একই বছরের জুলাইয়ে ১৫ দশমিক ৭৩ একর ভূমিসহ আলী হায়দার চৌধুরীকে  কারখানার দখল বুঝিয়ে দেয় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন (বিটিএমসি)। 

২০০৬ সালের ৭ জুন মালিকানা চুক্তি সম্পাদন হয়। পরে আলী হায়দার চৌধুরীর ছেলে টিপু সুলতান নোয়াখালী টেক্সটাইল মিলের স্থানে বেঙ্গল স্যু নামের প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদনে আসে প্রতিষ্ঠানটি। একই বছরের ১৪ আগস্ট এ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত জুতা প্রথম ইউরোপে রফতানির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এখানকারা উৎপাদিত জুতা রফতানি হচ্ছে বিশ্বের ৪০টি দেশে।

ব্যবসায়িক সাফল্যের দিক থেকেও বেশ ধারাবাহিক বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজ। বর্তমানে কারখানাটির বার্ষিক আয় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন ও আরো শ্রমিক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

দক্ষ শ্রমিকদের সরাসরি জুতা তৈরির কাজে নিয়োগ দেয়া হয়। অদক্ষ শ্রমিকদের কারখানার ভেতরেই প্রশিক্ষণ দেয় এসইআইপি নামে একটি সংস্থা। প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরও উৎপাদন কাজে নিয়োগ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণকালে নতুন শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতাও দেয়া হয়।

আটটি বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে কারখানাটির কার্যক্রম। কোনো বিভাগে নতুন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কোনো বিভাগে হচ্ছে কাঁচামাল প্রক্রিয়াকরণ। কোথাও আবার শ্রমিকরা জুতা উৎপাদন করছেন হাতে ও মেশিনে। কোথাও আবার বিদেশি ক্রেতারা নিজেরা উপস্থিত থেকে অর্ডারকৃত জুতার মান বুঝে নিচ্ছেন।

বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজের উপ মহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মো. শাহ আলম নয়ন জানান, বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বিপ্লব পাল জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে অধিকাংশ নারী শ্রমিক কাজ করছেন। কারখানায় তাদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও শিশু সন্তানদের জন্য ডে কেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটিও দেয়া হয়।

বেঙ্গল স্যু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, এ কারখানায় বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান রয়েছে। স্বামী পরিত্যক্তা নারীর সংখ্যা বেশি। এ প্রতিষ্ঠানে অত্যাধুনিক মেশিন বসানো হচ্ছে। ফলে আরো অধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রতি মাসে বিদেশিদের কাছ থেকে অর্ডার পাচ্ছি। তারাও আমাদের পণ্য নিয়ে সন্তুষ্ট। মান সম্মত জুতা তৈরিতে আমরা বদ্ধপরিকর। আগামীতেও আরো বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে জানান টিটু সুলতান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!