জানা গেছে, যেকোনো আয়োজন কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আইটেমের সঙ্গে হাঁসের মাংস থাকে। বিশেষ করে ভোজন বিলাসীদের পাতে হাঁসের মাংস থাকবেই। এসব অনুষ্ঠান ছাড়াও বন্ধুদের নিয়ে ছোট ছোট হাঁস পার্টি, গ্রুপ কেন্দ্রিক, বিভিন্ন সংগঠন, ঘটা করে হাঁস পার্টি করে থাকে এখানকার মানুষ। রুটি দিয়ে সন্ধ্যার পর চলে খাবারের আয়োজন।
শীতের মৌসুমে হাঁসের মাংস খাওয়া একটা রীতির প্রচলন আছে লক্ষ্মীপুরের প্রতিটি এলাকা। শীতে হাঁসের মাংসের স্বাদই আলাদা। যার কারণে শীতের শুরু থেকে হাঁস কেনাবেচা হয়। অনেকেরই খাদ্য তালিকায় এই শীতে হাঁস প্রথমে উঠে এসেছে। হাঁস আর রুটি নিয়ে যায় পরস্পরের আত্বীয়-স্বজনদের বাড়িতে। নতুন জামাই আসলে জবাই করা হয় দেশীয় পাতি হাঁস।
.png)
বন্ধুদের পার্টিতে এসে সোহেল বলেন, আমরা ২০ জন বন্ধু নিয়ে একটা হাঁস পার্টি করেছি। এটি আমাদের লক্ষ্মীপুরের একটি ঐতিহ্য। আমরা প্রতিবছর শীত আসলেই এমন আয়োজন করি।
তিনি আরো বলেন, শীতে অনেক হোটেলে স্পেশাল মেন্যু হচ্ছে হাঁসের মাংস। যা ভোজন বিলাসীরা খুব আয়েশ করে খান। দুই সপ্তাহ পরপর হাঁস পার্টি হয়। শুধু পার্টি নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের বাসা বাড়িতে চলমান। আমরা খুব আনন্দ করি।
লক্ষ্মীপুরের হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল্যাহ বলেন, আমার দোকানে সারা বছরই হাঁসের মাংস আর রুটির ব্যবস্থা থাকে। তবে শীতকাল হাঁসের মাংস বিক্রির মৌসুম। এ সময়ে হাঁসের মাংসের স্বাদও একটু বেশি থাকে। ক্রেতাও বেড়ে যায় অন্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ। জেলার সবস্থানে পাওয়া যায় পাতিহাঁস, চীনাহাঁস, রাজহাঁস। যার যার পছন্দ সে তা কিনে নিয়ে যায়।
হাঁস বিক্রেতারা জানান, প্রতিবছরে হাঁসের ব্যবসা করেন তারা। কিন্তু শীত আসলেই তাদের ব্যবসা দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ হয়ে থাকে। ফলে বিগত সময়ের ছেড়ে লাভবান হয়। দৈনিক একটি বেপারী হাঁস বিক্রি করে ৫০ থেকে ১০০ পিস হাঁস।
হাঁস বিক্রেতারা আরো জানান, লক্ষ্মীপুরের মানুষের হাঁসের মাংস খাওয়া অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। যেন হাঁস খাওয়ার উৎসব শুরু হয়ে যায় এ সময়। পাড়া-মহল্লার পিকনিক-বনভোজনেও হাঁসের মাংস চলছে।