মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেওয়া চারজন হলেন- আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছার ভাড়া বাসার মালিক আনিসুজ্জামান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় জব্দ তালিকার সাক্ষী মোস্তাক আহম্মেদ, আসামি এহতেশামুল হক ভোলার ইনকোয়ারি স্লিপের তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই শংকর বড়ুয়া ও আসামি আনোয়ার হোসেন এবং ইনকোয়ারি স্লিপের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আরিফ হোসেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী নেছার আহম্মেদ বলেন, মিতু হত্যা মামলায় মঙ্গলবার চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলাটিতে মোট ৩৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
.png)
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরের জিইসি মোড়ের কাছে ওআর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ঐ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন তার স্বামী তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার। মামলাটি তদন্ত শুরু করে নগর ডিবি পুলিশ। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ‘আদালতের নির্দেশে’ মামলার তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপরই ঘুরতে থাকে মামলার গতিপ্রকৃতি। পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসতে থাকে স্ত্রী হত্যার সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার নানা দিক।
২০২১ সালের ১০ মে মামলার বাদী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুল আক্তারকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে ডেকে নেয়া হয়। এরপরই তাকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। পরে ১২ মে দুপুরে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে নগরের পাঁচলাইশ থানায় আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।
২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঐ মামলায় বাবুল আক্তারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে দুই হাজার ৮৪ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। ১০ অক্টোবর অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন আদালত। এরপর ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ৯ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি করা হয় বাবুল আক্তারকে।
অভিযোগপত্রে আরো যাদের আসামি করা হয় তারা হলেন- কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা, এহতেশামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু ও শাহজাহান মিয়া। আসামিদের মধ্যে শুধু কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা পলাতক বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।