রোববার অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুই বোন একসঙ্গে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পেরে খুশি তারা।
এদিন বেলা ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব আসুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন হারিছা খাতুন ও ছলেমা খাতুন।
.png)
বড় বোন হারিছা খাতুন বলেন, আমার বয়স হয়েছে ৯৫ বছরের মতো। এই দীর্ঘ বয়সে অনেক বার ভোট দিয়েছি। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বাঁচি কিনা জানি না। হয়তো এবারের নির্বাচনে এটাই শেষ ভোট। আজকের এই ভোট দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে সেই ভোটটি কেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে দিয়েছি। এতে আমার অনেক ভালো লেগেছে।
তার ছোট বোন ছলেমা খাতুন। তিনি জানান, আমারও বয়স প্রায় ৯০ বছর। বড় বোনসহ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছি। নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে নিজেদের ভোট দিয়েছি। সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারায় আমরা খুশি। কারণ আগামী এই নির্বাচন পর্যন্ত আর বাঁচবো কিনা জানি না।
পূর্ব আসুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার দুই হাজার ৫৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক হাজার ২৯৮জন ও নারী ভোটার রয়েছেন এক হাজার ২৫৮ জন। কেন্দ্রটিতে সকাল থেকে সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের কাজ করছেন।
জানা যায়, রোববার সকাল ৮টা থেকে লালমোহন উপজেলার একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের মোট ৮৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ৫৭ হাজার ৬৩৩ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ২৫ হাজার ২০ জন, পুরুষ ভোটার এক লাখ ৩২ হাজার ৬১০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন তিনজন।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। এ জন্য মাঠে পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।