শিবালয় উপজেলার উলাইল গ্রামের কৃষক আখের আলী। আড়াই বছর আগে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে বাছুরসহ অস্ট্রেলিয়ান ক্রস জাতের একটি গাভি কিনেছিলেন। গত ২৬ নভেম্বর একসঙ্গে চারটি বাছুর জন্ম দেয় ওই গাভিটি। মা অস্ট্রেলিয়ান ক্রস জাতের হলেও বাছুরগুলো হয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের। এদের মধ্যে তিনটি ষাড় ও একটি বকনা বাছুর। এদিকে একসঙ্গে চারটি বাছুর জন্ম দেওয়ায় দুধের যোগান দিতে পারছে না গাভিটি। তাই প্রতিদিন ওই বাছুরগুলোকে প্যাকেটজাত দুধ গুলিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে।
কৃষক আখের আলী জানান, আড়াই বছর আগে বাছুরসহ গাভিটি কিনেছিলাম। তখন প্রতিদিন চার লিটার করে দুধ দিতো গাভিটি। গেল বছর কোনো বাচ্চা না হওয়ায় মনটা খারাপ ছিল। তবে এবার একটি নয়, একসঙ্গে চারটি বাছুর জন্ম দিয়েছে গাভিটি। এক মাস আগে জন্ম নেয়া চারটি বাছুরই আল্লাহর রহমতে সুস্থ আছে। তবে, চারটি বাছুরের দুধের যোগান দিতে পারছে না ওদের মা। তাই প্রতিদিন প্যাকেটের দুধ বাজার থেকে এনে সেগুলো গুলিয়ে ওদের খাওয়ানো হচ্ছে। এতে আমার চার থেকে পাঁচশত টাকা প্রতিদিন খরচ হচ্ছে। চারটি বাছুরের খাবারের খরচ যোগাতে কষ্ট হলেও ওদের পেয়ে আমার পরিবারের অন্য সদস্যরাও বেশ খুশি।
.png)
কৃষক আখের আলীর স্ত্রী হেনা আক্তার জানান, আমাদের গাভিটির চারটি বাছুর হয়েছে। বাচ্চাদের মতো এদের অনেক যত্ন করতে হয়। মায়েরা যেমন তার বাচ্চাকে যত্ন করে ঠিক তেমনভাবেই ওদের যত্ন করে বড় করেছি। একেকটি বাছুরের প্রতি বেলায় এক লিটার করে দুধ লাগে।
আখের আলীর বাবা জিন্নত আলী জানান, আমি কখনো গাভির একাধিক বাছুর হওয়ার কথা শুনিনি। এ প্রথম নিজের চোখে সেটা দেখলাম। আমাদের বাড়িতে ৪০ দিনে এই বাছুরগুলো দেখার জন্য কম করে হলেও ১২ হাজারের বেশি মানুষ এসেছেন।
শিবালয় উপজেলার তেওতা গ্রামের মোহাম্মদ রহিজ উদ্দীন জানান, ফেসবুকে দেখতে পেলাম একটি গাভির চারটি বাছুর হয়েছে। সাধারণত এমন ঘটনা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। যেহেতু এই গ্রামে আমার আত্মীয়র বাড়ি তাই বেড়াতে এসে বাছুরগুলো দেখলাম। বাছুরগুলো বেশ ছোটাছুটি করছে।
উলাইল গ্রামের পাশের গ্রাম দক্ষিণ উলাইল থেকে এই বাছরগুলো দেখতে এসছেন গীতা রানী মন্ডল। তিনি বলেন, তার ছেলে কার কাছ যেন শুনেছে উলাইল গ্রামে একসঙ্গে চারটি বাছুর জন্ম নিয়েছে। এমন ঘটনা দেখা তো দূরের কথা কখনো শুনিনি। তাই ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে দেখতে চলে এসেছি। বিষয়টা প্রথমে আমার কাছে অবাক লেগেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুল ইসলাম জানান, আমরা জানি স্বাভাবিকভাবে একটি গাভি বছরে একটি করে বাচ্চা দেয়। একাধিক শুক্রাণু ও ডিম্বানুর মিলনের ফলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। একসঙ্গে চারটি বাছুর এমন ঘটনা অস্বাভাবিক না হলেও বিরল বলে জানান তিনি।