জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ সদর, সিংগাইর ও সাটুরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে এখন নানা জাতের শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে লালশাক, পালংশাক, ফুলকপি, বাধাকপি, মুলা, শিম, বেগুন, লাউ, গাজর ও টমেটোর আবাদ হচ্ছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম সময়ে ফলন আর অধিক লাভের কারণেই দিন দিন প্রসার পাচ্ছে সবজি চাষ। প্রতি বিঘায় সার, কীটনাশক ও চারার জন্য ব্যয় হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। গত বছর এ মৌসুমে আড়াই হাজার কোটি টাকার শীতকালীন সবজি বিক্রি হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আরো এক হাজার কোটি টাকার বেশি সবজি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের রাইল্লা এলাকার কৃষক রহমান মিয়া জানান, আগের বছর দুই বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করেছিলাম। দুই বিঘায় বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ করে লাভ হওয়ায় এবার আড়াই বিঘা জমিতে শিম, ধনিয়াপাতা ও গোল জাতের বেগুন আবাদ করেছি। এতে তার ফসল উঠানো পর্যন্ত ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত আমি ৮৫ হাজার টাকার মতো সবজি বিক্রি করেছি। শিম গাছে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আশা করি সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হবে।
.png)
একই ইউনিয়নের জান্না গ্রামের তরুণ কৃষক সোহেল হোসেন সারাবছর পেঁপে চাষের সঙ্গে জড়িত। তিনি এই মৌসুমে আড়াই বিঘা জমিতে পেঁপে ক্ষেতে সাঁথি ফসল হিসেবে ফুলকপি, ধনিয়াপাতা, লালশাক ও টমেটোর আবাদ করেছেন। ধনিয়াপাতা ও লালশাক বিক্রি করা শেষ। এখন ফুলকপি ও টমেটো বিক্রি শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, সাঁথি ফসলে একটা সুবিধা হচ্ছে একটা ফসল থেকে লোকসান হলে অন্যটা দিয়ে পুষিয়ে নেয়া যায়। আশা করি, বড় রকমের দুর্যোগ না আসলে আমার এবার দুই লাখ টাকার মতো শীতকালীন সবজি থেকে লাভ হবে।
সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের বিন্নাডাঙ্গী এলাকার কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, আমি এবার তিন বিঘা জমিতে টমেটো ও এক বিঘা জমিতে শিমের আবাদ করেছি। সার, কীটনাশক ও বীজের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। এতে করে আমাদের আবাদে খরচ বেড়ে গেছে। টমেটো ও শিমের ফলন ভালো হয়েছে। আমার আশা, খরচের টাকা উঠিয়ে লাভ হবে কিন্তু আমাদের দেশ যেহেতু কৃষিপ্রধান দেশ তাই কৃষকদের কথা ভেবে সার, কীটনাশক ও বীজের দাম কমানো উচিত।
একই গ্রামের কৃষক মুহাম্মদ ফরিদুর রহমান জানান, মানিকগঞ্জে প্রচুর পরিমাণ সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। আমাদের এই সবজিগুলোর মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। দেশের অনেক সবজি যেহেতু বিদেশ যায় তাই মানিকগঞ্জ থেকে যদি কৃষি বিভাগের স্যারেরা আমাদের সবজিগুলো বিদেশে রফতানি করার সুযোগ করে দিতেন তাহলে আমরা আরো লাভবান হতাম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, গত দুই বছর ধরে আমরা প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের জমিতে একাধিক সাঁথি ফসল করার পরামর্শ দিচ্ছি। এতে করে কৃষকদের মাঝে একটা আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠেছে যে, একটি জমিতে একাধিক ফসল করা যায়। সাঁথি ফসলের আরো একটি ভালো দিক হচ্ছে একটি ফসলে যদি কোনো কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে তিনি অন্য ফসলের মাধ্যমে তার লোকসান উঠিয়ে নিতে পারেন। আশা করছি, এ মৌসুমে মানিকগঞ্জ থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের সবজি বিক্রি হবে।