ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

চুরি ঠেকাতে পেঁয়াজ ক্ষেতে পাহারায় কৃষক

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
চুরি ঠেকাতে পেঁয়াজ ক্ষেতে পাহারায় কৃষক
পেঁয়াজ ক্ষেতে পাহারায় কৃষক -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে পেঁয়াজের আবাদ হয় হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলায়। পেঁয়াজের আমদানি বন্ধের খবরে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। বর্তমানে এই নতুন পেঁয়াজ হরিরামপুরের ঝিটকা ও শিবালয়ের হাটে প্রতিমন বিক্রি হচ্ছে চার হাজার থেকে ৪২শ’ টাকায়।

সেই সুযোগে অনেকের ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ চুরির ঘটনাও ঘটছে। সেই চুরি ঠেকাতে ক্ষেত পাহারা দিতে দেখা গেছে অনেক কৃষককে।

হরিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, হরিরামপুর উপজেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। উপজেলার বাল্লা, চালা, গালা, গোপীনাথপুর, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই এসব পেঁয়াজ পরিপক্ক হয়ে বিক্রির উপযোগী হবে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বাহিরচর এলাকার পেঁয়াজ চাষি আব্দুল মালেক জানান, এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি। বর্তমানে পেঁয়াজের বাজার দর ভালো যাচ্ছে। দাম ভালো থাকায় আমার দুই থেকে তিন শতাংশ জমির পেঁয়াজ চুরি হয়ে গেছে। চুরির ভয়ে ক্ষেত থেকে অপরিপক্ক অবস্থায় পেঁয়াজ তুলছি বিক্রির জন্য। 

একই গ্রামের কৃষক মঙ্গল জানান, কয়েকদিন আগে আমার ক্ষেতের পাশের জমি থেকে এক কৃষকের পেঁয়াজ চুরি হয়েছে। এরপর থেকেই আমি প্রতিদিন রাত জেগে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছি। দুই সপ্তাহ গেলে পেঁয়াজ পরিপক্ক হলে সেগুলো ভালো দামে বিক্রি করা যাবে। কিন্তু সারাদিন কাজ করে আবার রাতে ক্ষেত পাহারা দেওয়া অনেক কষ্টের। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, মানিকগঞ্জের মধ্যে হরিরামপুরে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে অনেক পেঁয়াজের আবাদ হয়। কৃষককের ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ চুরির ঘটনাটি অমানবিক ও ক্ষতিকর বটে। চুরির ভয়ে যদি কৃষকরা অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হন তাহলে আর্থিক দিক দিয়ে অনেক ক্ষতি হবে। এ বছর উপজেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। 

হরিরামপুর থানার ওসি শাহ্ নুর এ আলম জানান, কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!