সারা বছরে চাহিদা হয় ৩২ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন। আর জেলায় বর্তমানে পেঁয়াজের উৎপাদন প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯২.৪০ শতাংশ বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে।
সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সার, উন্নত জাতের বীজ ও নগদ অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। এতে প্রতিবছরই মোট উৎপাদন বাড়ছে।
.png)
রাজশাহী কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের তিনটি মৌসুমে রাজশাহীতে ২১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখান থেকে পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। এরমধ্যে তাহেরপুরী জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ সাত হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন, তাহেরপুরী জাতের চারা পেঁয়াজ ১২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন এবং গ্রীষ্মকালীন নাসিক এন-৫৩ জাতের ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ৩৫ হাজার ১০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।
রাজশাহীর পবা উপজেলার পেঁয়াজ চাষি সাবিয়ার আলী জানান, বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি। এ কারণে আগেই পেঁয়াজ জমি থেকে তুলে বাজারে এনেছি। তবে এখন নতুন পেঁয়াজের দাম আগের চেয়ে কমে গেছে। আর এবার পেঁয়াজের উৎপাদনও ভালো।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাজশাহীর উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন জানান, বর্তমানে মুড়িকাটা ও নাসিক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ উঠছে। এরইমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে এসেছে।
তিনি আরো জানান, হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা সময়ের আগেই পেঁয়াজ তুলে বাজারে পাঠাচ্ছে। দুই-একদিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজে বাজার ভরে যাবে। রাজশাহী জেলায় উদ্বৃত্ত থাকে ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। রাজশাহীর সারা বছরের চাহিদা মিটিয়ে এই পেঁয়াজ আমরা দেশের ১৬ কোটি ৮০ লাখ মানুষকে একদিন খাওয়াতে পারব।
এদিকে, রাজশাহীর বাজারে নতুন পেঁয়াজ প্রতিকেজি ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর টিসিবি নগরীতে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম আরো কমে আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো।