ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বিয়ের চাপ দেওয়ায় তরুণীকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩
বিয়ের চাপ দেওয়ায় তরুণীকে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

খুলনার এনামুল সানা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ফেসবুকে প্রেম হয় দিনাজপুরের পার্বতীপুরের রুবিনা আক্তার (২৪) নামে এক তরুণীর। ঐ তরুণী ময়মনসিংহের একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। পরে চাকরির প্রলোভনে আশুলিয়ার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন সানা। এসময় রুবিনা বিয়ের জন্য চাপ দেন এনামুলকে। কিন্তু এনামুল রাজি হন না। একপর্যায়ে রুবিনাকে বালিশচাপায় হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেন।

এ ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মাথায় তাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এনামুল।

র‌্যাব এনামুল সানার (২৭) পাশাপাশি তার সহযোগী সোহাগ রানাকে (২৮) গ্রেফতার করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ব্যবহৃত ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, গত ৯ ডিসেম্বর আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিক্রমপুর এলাকায় বংশাই নদীতে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন নৌ-পুলিশ ও র‌্যাবকে জানায়। পরে সেই লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় মেলে সেই নারীর নাম রুবিনা আক্তার। তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার রঘুনাথপুর দোলাপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়ারেছের মেয়ে। তবে কে বা কারা তাকে হত্যা করে সে সময় জানতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার আলামতের সূত্র ধরে কথিত প্রেমিক এনামুল সানাসহ দু’জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

আল মঈন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এনামুল জানিয়েছেন, রুবিনার সঙ্গে তার ছয় মাস আগে ফেসবুকে পরিচয় হয়। এনামুল বিবাহিত ছিলেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি রুবিনার কাছে গোপন রাখেন। চলতি মাসে এনামুলের বৌ-বাচ্চা খুলনার গ্রামের বাড়িতে চলে গেলে তিনি রুবিনাকে বেশি বেতনে আশুলিয়ায় চাকরি নিয়ে দেবেন প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে আনেন। এরপর তাকে আটকে রাখেন। রুবিনাকে সাভারে নিয়ে আসার আগে তিনি একটি গার্মেন্টসে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন। তবে রুবিনা এসে দেখতে পান তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এসময় তিনি এনামুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।

গত ৮ ডিসেম্বর বিকেলে ক্ষিপ্ত হয়ে রুবিনাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন। এরপর লাশটি বংশাই নদীতে ফেলে দেন। এই কাজে সোহাগ তাকে নানাভাবে সাহায্য করেন।

র‌্যাব জানায়, এনামুল ছয় বছর আগে খুলনা থেকে ঢাকায় এসে আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন। তিনি কোনো এক সময় গার্মেন্টসের সুপারভাইজারের চাকরি করতেন। বর্তমানে ভাড়ায় নিজের মোটরসাইকেল চালান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!