রোববার (১০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ঐ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। এতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট শিক্ষকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে শিক্ষকরা অতি দ্রুত গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধে বিশ্বের মোড়লদের কার্যকরী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে যাতে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় তার দাবি জানানো হয়।
.png)
এসময় ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, যারা এক সময় মুসলিম উম্মাহর কথা বলতেন তারা আজকে গাজাবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন না। যারা আজ গাজায় গণহত্যা, অগ্নিসন্ত্রাস করছে তারাই সেই বহিরাষ্ট্রের একটি বড় শক্তি। আমরা চাই এই গণহত্যা বন্ধ হোক।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত হচ্ছে গাজার বিশ লক্ষ মানুষ। ইতিমধ্যে বিশ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে যাদের বেশির ভাগই নারী এবং শিশু। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে গাজার এক ইঞ্চি জায়গায়ও ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরাপদ না। কাজেই এই দমন, নিপীড়ন, শোষণ, নির্যাতন ও ঔপনিবেশিক শাসন বন্ধ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, আজকে নিষ্ঠুরভাবে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দেওয়ার পরেও যুদ্ধ বিরতিতে তারা আসে না। গত শুক্রবার যুদ্ধ বিরতির বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে ১৫টি রাষ্ট্রের মধ্যে ১৩টি রাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এখানে কি বোঝা যাচ্ছে- ইসরাইল মাঠে থেকে যুদ্ধ করছে কিন্তু তার সব ধরনের রসদ যোগাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তা না হলে যখনই নিরাপত্তা পরিষদের ১৩টি রাষ্ট্রই যুদ্ধ বন্ধ করতে বলছে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ভেটো দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, গতকাল ফিলিস্তিনের একজন কবিকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি কবিতা লিখে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সাহস যোগাতেন। যারা বিশ্বজনমত সৃষ্টি করছে তাদেরকে আজ হত্যা করা হচ্ছে। ১৯৭১ সালে যেমন পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যা করা হয়েছিলো সেভাবেই আজ হত্যা করা হচ্ছে ফিলিস্তিনের যারা বুদ্ধিজীবী।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জিনাত হুদার সঞ্চালনায় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস ছামাদ, অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ, অধ্যাপক ড. সৌরভ সিকদার, অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম, অধ্যাপক ড. সুরাইয়া আক্তার প্রমুখ বক্তব্য দেন।