ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চাটখিলে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫২, ৩০ নভেম্বর ২০২৩
চাটখিলে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার মরিয়ম ওরফে অর্পিতা

নোয়াখালীর চাটখিলে গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার মরিয়ম ওরফে অর্পিতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। 

অর্পিতা হত্যার ঘটনায় গত ২৭ নভেম্বর নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা করেন নিহতের মা।

বুধবার (২৯ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সহকারী পিপি এমদাদ হোসেন কৈশোর। 

Advertisement

নিহত ফাতেমা আক্তার মরিয়ম ওরফে অর্পিতা নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সিংবাহুড়া গ্রামের ইতালী প্রবাসী রাইসুল ইসলাম রুবেলের স্ত্রী। তিনি উপজেলার শাহনেয়ামতপুর গ্রামের বেলাল হোসেন-শাহীন আক্তার দম্পতির মেয়ে।

সহকারী পিপি এমদাদ হোসেন কৈশোর বলেন, অর্পিতা হত্যার ঘটনায় গত ২৭ নভেম্বর নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা করেন নিহতের মা। মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানী শেষে বিচারক আব্দুর রহিম মামলাটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দিতে চাটখিল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

জানা যায়, ইতালী প্রবাসী রাইসুল ইসলাম রুবেলের সঙ্গে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে অর্পিতার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তার স্বামী ইতালী চলে যান। গত দুইমাস আগে তার শ্বশুর-শাশুড়ি অর্পিতাকে ইতালী পাঠানোর জন্য তার জাতীয় পরিচয়পত্রের বয়স সংশোধন করে এবং ২০ লাখ টাকা তার বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু অর্পিতার বাবা কৃষি কাজ করায় ২০ লাখ টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে অর্পিতার শাশুড়ি রহিমা বেগম ও তার ননদ ফারহানা প্রতিনিয়ত তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতে শুরু করে।

গত ২২ নভেম্বর টাকার জন্য অর্পিতাকে তার বাবার বাড়ি পাঠান শাশুড়ি। কয়েক দিনের মধ্যে টাকা ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিলে অর্পিতা শ্বশুরবাড়ি চলে যান। এ নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে অর্পিতার কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে ২২ নভেম্বর মধ্যরাতে অর্পিতার শাশুড়ি রহিমা বেগম, ননদ ফারহানা ও  তার স্বামী (ঘরজামাই) ফরিদ তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে লাশ বাথরুমে ফেলে রেখে অর্পিতা আত্মহত্যা করেছেন বলে বাবার বাড়ি খবর দেন। খবর পেয়ে তার বাবা-মা ঘটনাস্থল গিয়ে বিছানায় শোয়া অবস্থায় মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

চাটখিল থানার ওসি মো.এমদাদুল হক বলেন, আদালতে মামলার বিষয়টি জানি না। এ সংক্রান্ত আদালতের কোনো আদেশ থানায় এসে পৌঁছেনি। তবে ঘটনার পর পরই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নেয়া হয়। ওই মামলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদকে গ্রেফতার করে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। তবে ননদের শিশু সন্তান থাকায় আদালত তাকে জামিন এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!