সোমবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কোর্টের পেশকার সাইফুল ইসলাম।
দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম সদর উপজেলার করোটা গ্রামের সামসুল হকের ছেলে।
.png)
স্পেশাল কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান জানান, ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর নাটোর সদরের করোটা গ্রামের সামসুল হকের ছেলে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে হাসনা হেনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য হাসনা হেনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৫ সালের ৫ ডিসেম্বর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে যৌতুকের জন্য আর কোনোদিন নির্যাতন করবেনা অঙ্গীকার করলে তাদের পুনরায় বিয়ে হয়। পরবর্তীতে হাসনা হেনা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়। কিন্তু শরিফুল ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন বন্ধ হয় না। নির্যাতনের প্রতিবাদ করলে ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট রাতে হাসনা হেনাকে পিটিয়ে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে পালিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। পরের দিন সকালে খবর পেয়ে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে ঘরের বারান্দায় হাসনা হেনার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন মা মর্জিনা বেগম।
এ ঘটনায় নিহতের মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে হাসনা হেনার স্বামীসহ ৪ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ৬ বছর মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির উপস্থিতিতে আদালতের বিচারক শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। এ সময় মামলার অপর তিন আসামিকে মামলা থেকে খালাস দেন বিচারক। মামলার রায়ে বাদী পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।