এ ঘটনায় নওগাঁ সদর উপজেলার কুমরিয়া গ্রামের আলোপের ছেলে নিহতের ছোট ভাই ইমরান হোসেন বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে মামলা করেছে। এ ঘটনার পর পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
.png)
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার দুলাল হোসেনের ছেলে ট্রাক চালক সুমন এবং উল্লাসপুর আকন্দপাড়া গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের ছেলে সজিব।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদ মামুন শনিবার তালতলি মোড়ের নিজের কারখানা থেকে ট্রাকে করে কংক্রিটের খুঁটি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করেন। পরে এক লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে একইদিনই সন্ধ্যার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে ঐ ট্রাকে নিজ বাড়ি নওগাঁর উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১১টায় জেলার মান্দা ফেরিঘাটে একটি হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করেন। রাত ১২টার পর তারা তিনজনই ট্রাকের কেবিনের মধ্যে উঠে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর রাত সাড়ে ১২টার সময় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের খোর্দ্দনারায়নপুর-ভীমপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় পৌঁছান তারা। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে টাকা ছিনতাইয়ের জন্য সজিব হাতুড়ি দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করেন। এতে মামুন ট্রাকের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে সুমন ট্রাকটি থামিয়ে মামুনকে ট্রাক থেকে নামিয়ে রাস্তার বাম পাশে ফেলে রাখেন।
আসামি সুমন এরপর একটি লোহার রড এবং সজিব হাতুড়ি দিয়ে মামুনের মাথায়, ডান কানের নিচে, বাম পাশের চোখের কোণাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করেন। পরে মামুনের প্যান্টের পকেটে থাকা এক লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেন তারা।
ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদ মামুনের নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পেরে নওগাঁ সদর থানা এবং মহাদেবপুর থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম তার সন্ধানে কাজ শুরু করে। পরে ট্রাকচালক সুমন এবং তার সহযোগী সজিবকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে, ঘটনাস্থলে গিয়ে মামুনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর সুমনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকৃত ৮২ হাজার ৫০০ টাকা এবং সজিবের বাড়ি থেকে ৫৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া নওগাঁ সদর থানাধীন জবার মোড় হতে ঐ ট্রাক, হত্যায় ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি এবং একটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ছিনতাই এবং হত্যার কথা স্বীকার করেন।