ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আগাম ধান কাটা শুরু, ফলনে খুশি কৃষক

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ১৬:০০, ১৩ নভেম্বর ২০২৩
আগাম ধান কাটা শুরু, ফলনে খুশি কৃষক
আগাম জাতের আমন ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে আগাম জাতের আমন ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। 

আগাম জাতের ধানের সোনালি শীষে ভরে গেছে কৃষকের ক্ষেত। বাতাসে ঢেউ তুলছে সোনালি ধানের শীষ। এদিকে ধান কাটা-মাড়াই কাজে কৃষকের পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে দিনমজুরদেরও। 

কৃষকরা প্রাণভরে ধান কেটে মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এ মৌসুমে আগাম আমন ধান কাটা শুরু হলে ও আগামী ৮-১০ দিন পর পুরো দমে ধান কাটা শুরু হবে। 

Advertisement

ধানের আশানুরূপ ফলন হওয়ায় কৃষক-কৃষাণির চোখে-মুখে দেখা দিয়েছে আনন্দের ঝিলিক। বর্তমানে বাজারে ধানের দাম নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জমিতে ধান আবাদ করেন। তাছাড়া কৃষি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে থেকে পরামর্শ প্রদান করায় কোনো কিছুতেই তাদের বেগ পেতে হয়নি।  

জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন আবাদে প্রায় ৪ হাজার ৩ শ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।  যা গত বছরের চাইতে ২শ হেক্টর বেশি রয়েছে। রোপণকৃত জমির মধ্যে উন্নতফলনশীল জাতের ব্রি-৮৫, ৮৭, ৯৩, ৯৪, ৯৫ ধান রয়েছে। এই মৌসুমে আমন ধান রোপণের জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ৬শ কৃষকদেরকে ৫ কেজি বীজ ধান, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়।

কৃষি বিভাগ জানায়, আগাম জাতের আমন ধান কেটে ওই জমিতে বাড়তি ফসল হিসাবে আলু, বেগুনসহ শীতকালীন সবজি ও সরিষা চাষ করতে পারবে কৃষকরা। বাড়তি ফসল করলে এতে তারা লাভবান হবেন।

কৃষক মো. হোসেন মিয়া জানান, গত কয়েক বছর ধরে ধানের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তাই এ মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে উন্নত বীজ দিয়ে আমন ধান রোপণ করেন। বর্তমানে তার ১ বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। এতে ১৮ মণ ধান পেয়েছেন। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে বাকি ধান কাটা হবে। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি খুবই খুশি।

কৃষক মো. বাছির মিয়া জানান, কৃষি অফিসের সহায়তায় এ মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেন। জমির সব ক্ষেতেই শীষ এসেছে। এরই মধ্যে ১ বিঘা জমির ধান পেকে যাওয়ায় ধান কাটা হয়েছে। বাকী জমির ধান ১০-১২ দিন পর কাটা হবে। বীজ, সার সেচসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ায় এ বছর তার জমিতে ফলন ভালো হয়েছে।

মো. হামদু মিয়া জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার তার জমিতে ভালো ধান হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি আগাম জাতের ১ বিঘা জমির ধান কেটেছেন। বাকী ধান কাটতে আরো প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। শেষ পর্যন্ত  আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে যদি ধান কাটা শেষ করতে পারেন তাহলে তিনি লাভবান হবেন।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, মৌসুমের শুরুতে সরকারিভাবে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলায় কৃষষদেরকে পাঁচ কেজি করে উফসী ধানের বীজ, ১০ কেজি  ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। ফলন বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে থেকে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে  উপজেলার সর্বত্রই আমনের ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন।

তিনি আরো জানান, আগাম জাতের ধান কেটে একই জমিতে যদি সরিষা, আলু ও শাক-সবজি চাষ করা যায় এতে কৃষকরা লাভবান হবেন। আবার সরিষা ও শাক-সবজির আবাদ ঘরে উঠিয়ে একই জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা যাবে। এতে কোনো ক্ষতি হবে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!