রোববার বিকেলে আসামিদের নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, একইদিন ভোরে বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মুজাহিদপুর গ্রামের উজির আলী জমাদার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী মো. রাসেল, শ্বশুর ফখরুল ইসলাম, শাশুড়ি সফুরা বেগম এবং দেবর মামুন।
.png)
ভুক্তভোগী নাজমা অভিযোগ করে বলেন, পাঁচ বছর আগে উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মুজাহিদপুর গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. রাসেলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়। আমাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে আমার স্বামী রাসেল বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকার জন্য কলহ করতেন। কিছুদিন আগে নিজের অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেন।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, গত ৬ নভেম্বর নতুন অটোরিকশা কেনার জন্য দুই লাখ টাকা আনতে আমাকে বাবার বাড়িতে পাঠান। শনিবার দুপুরের দিকে রাসেল আমার কাছে টাকা চেয়ে ঘরের জিনিসপত্র ভাঙার চেষ্টা করেন। এ সময় আমি বাধা দিলে আমার শ্বশুর-শাশুড়ির উপস্থিতিতে রাসেল আমার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে আমার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যার দিকে আমাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, তেল জাতীয় পদার্থ দিয়ে শরীরে আগুন দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর শরীরের ২৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে।
বেগমগঞ্জ থানার এসআই আমেনা বেগম জানান, এ ঘটনায় যৌতুক আইনে মামলা নেয়া হয়েছে। আসামিদের ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।