বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক রোকসানা বেগম হ্যাপীর আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আরিফ হোসাইন তালুকদার এসব তথ্য জানান।
রায় ঘোষণার সময় রিপনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
.png)
জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১৩ জানুয়ারি রিপন গাজী ও শিউলী আক্তার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর তাদের দুটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। ২০১২ সালের ১২ জুলাই রিপন গাজী মোসা. পারভীন বেগমকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর রিপন শিউলীকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতে থাকে। তাকে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আরো এক লাখ টাকা যৌতুকের জন্য শিউলীকে নির্যাতন করেন রিপন। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই শিউলী কদমতলী থানায় রিপনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
এরই মধ্যে রিপন শিউলীকে তালাক দেয়। শিউলী তিন বছর বাবার বাসায় থাকে। ছেলেদের কথা চিন্তা করে তিন বছর পর পুনরায় তারা আবার বিয়ে করেন। তারা আলাদা বাসায় একত্রে বসবাস শুরু করেন। এরপর রিপন পারভীনের কথামত এক লাখ টাকা যৌতুকের জন্য শিউলীকে আবার মারধর করে আসছিল। ছেলেদের কথা চিন্তা করে শিউলী সব সহ্য করে আসছিল। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ শিউলী ও রিপন বাসায় ছিল। তাদের দুই ছেলে ছিল তাদের ছোট খালার বাসায়। পরদিন দুই ছেলে বাসায় এসে দেখে তাদের মা মৃত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাসায় বাবা নেই।
এ ঘটনায় শিউলীর বাবা মনির হোসেন ৭ মার্চ রিপন ও পারভীনকে আসামি করে যৌতুকের জন্য মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে কদমতলী থানার সাব-ইন্সপেক্টর লিটন মিয়া ২০১৮ সালের ৩০ জুন রিপনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রিপনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলার সময় আদালত ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।