বুধবার বেলা ১১টার দিকে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায়ে দেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জয়শ্রী সমদ্দার।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ আড়াকুল (জিন্দাপীর) এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে মো. রাকিব হোসেন ও নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার পূর্ব গোলমন্ডা এলাকার মো. মাহফুজার রহমান। যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন- ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ আড়াকুল (জিন্দাপীর) এলাকার মো. খোরশেদ আলমের ছেলে মো. শফিউর রহমান নাঈম, মানিকগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ সেওতা এলাকার জহিরুল ইসলাম ও নিহত মাহমুদা আক্তারের মেয়ে জুলেখা আক্তার জ্যোতি।
.png)
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি সকালে মামলার বাদী জহিরুল ইসলাম হাঁটতে বাইরে যান। পরে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে বাসায় ফিরলে মেয়ে জ্যোতি বাড়ির গেট খুলে দেন। এরপর মেয়েকে তার মায়ের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে মা শুয়ে আছে বলে জানান জ্যোতি। জহিরুল বাড়ির ৫ম তলায় পোষা কবুতরের বাসার জন্য নেট টানাতে যান। কাজ শেষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জ্যোতিকে ভীত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে। পরে জ্যোতি কোনো কথা না বলে ২য় তালার শয়ন কক্ষে নিয়ে যায়। জহিরুল তার স্ত্রীকে অনেক ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া না দিলে লেপ ধরে টান দিয়ে স্ত্রীর জিহ্বা বের করা ও নাকে রক্ত দেখতে পান।
এ সময় তার চিৎকারে অন্য রুমের ভাড়াটিয়ারা এসে মাহমুদাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে শ্বাসরোধে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে মেয়েসহ পাঁচজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন মাহমুদা আক্তারের স্বামী জহিরুল ইসলাম। ২০২০ সালের ৩১ মে মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. শামীম আল মামুন মামলায় জড়িত থাকার দায়ে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন।
মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জন ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি মো. আব্দুস সালাম।