বন্দর থেকে এসব ডিম ছাড় করে সরবরাহ করা হবে বাজারে। আমদানি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে খোলা বাজারে এসব ডিম প্রতি পিস ১০ টাকার মধ্যে বিক্রি সম্ভব হবে বলে সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, ডিম আমদানিতে দেশে সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারে কম দামে কিনতে পারবেন বলে আশা করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
জানা যায়, দেশের বাজারে প্রায়ই মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে তিন মাস আগে হঠাৎ করে নানান কারণ দেখিয়ে দেশের বাজারে ডিমের দাম ৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি করতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। এতে পুষ্টি সমৃদ্ধ ডিম কিনতে না পারায় সিন্ডিকেটকে দায়ী করে বাজার ব্যবস্থপনা নিয়ে ক্ষোভ জানান সাধারণ ক্রেতারা।
.png)
সবশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডিম আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। অবশেষে রোববার সন্ধ্যায় প্রথম চালানে ভারত থেকে ৬১ হাজার ৯৫০ পিস ডিমের আমদানি হয়। এসব ডিমের আমদানি মূল্য ধরা হয়েছে ২৯৮৮ ইউএস ডলার যা বাংলাদেশি অর্থে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭০০ টাকা। প্রতি পিস ডিম ভারতে কেনা মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৩০ পয়সা। ট্রাক ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে খোলা বাজারে এসব ডিম প্রতি পিস ১০ টাকার মধ্যে বিক্রি সম্ভব হবে বলে সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আমদানিতে সিন্ডিকেট ভেঙে বাজার অনেকটা স্বাভাবিক হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মোট ১০টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে মীম এন্টারপ্রাইজ, প্রাইম এনার্জি ইমপোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স, টাইগার ট্রেডিং ও অর্ণব ট্রেডিং লিমিটেড। আমদানি শর্তে বলা হয়েছে, ডিম ভাইরাস মুক্ত থাকতে হবে।
সাধারণ ক্রেতা তৌহিদুর রহমান জানান, বেশি দামে ডিম কেনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন আমদানিতে বাজারে দাম কমবে আশা করছি।
ডিম ছাড়কারি সি অ্যান্ড এফ প্রতিষ্ঠান এম ই এন্টার প্রাইজের প্রতিনিধি মহিদুল হক রুবাই জানান, ভারত থেকে প্রথম চালানে ৬১ হাজার ৯৫০ পিস ডিম আমদানি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ডিমের বাকি চালান খুব দ্রুত বন্দরে আসবে।
বেনাপোল স্থলবন্দর প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন অফিসের ইনচার্জ বিনয় কৃষ্ণ মন্ডল জানান, ডিমবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের পর সেটি ভাইরাসমুক্ত বা খাওয়ার উপযোগী কিনা পরীক্ষা করা হয়। পরে তা মানসম্পূর্ণ হওয়ায় বন্দর থেকে ডিমের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছিল দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা। ডিম আমদানির ফলে দেশে যে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল তা এখন ভাঙবে।