ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: শিশু রবিউলের পরিবারের সন্ধান মিলেছে 

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:৫৫, ২৬ অক্টোবর ২০২৩
ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: শিশু রবিউলের পরিবারের সন্ধান মিলেছে 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার দুইদিন পর হাসপাতালে ভর্তি আহত শিশু রবিউলের বাবার খোঁজ মিলেছে। শিশুটির স্বজনদের সন্ধানে গণমাধ্যম খবর প্রকাশের পর বাবা মিলন মিয়া ছেলের সন্ধান পান। পরে ভৈরবের স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে মোবাইলে বাবা-ছেলের ভিডিও কথোপকথন হয়।

বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ। 

তিনি বলেন, আমরা খুব খুশি, রবিউল তার পরিবারকে খুঁজে পেয়েছে। আমি তার বাবা মিলন মিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। তিনি ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে থাকেন। সেখানে একটি রেস্টুরেন্টে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত। রাতেই একটি লোকাল ট্রেনে কয়েকজনকে নিয়ে তিনি ছেলেকে নিতে ভৈরবের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তবে কীভাবে তার ছেলে ভৈরবে পৌঁছাল সে বিষয়ে তিনি তেমন কিছু বলতে পারেনি। তিনি আসলে সব বিষয় স্পষ্ট হওয়া যাবে এবং আমরা যাবতীয় প্রমাণাদি মিলিয়ে তাদের পরিচয়ের সত্যতা পেলে মিলন মিয়ার কাছে ছেলে রবিউলকে হস্তান্তর করব। তবে রবিউলের মুখ থেকে আমরা জেনেছিলাম তার মা নেই। বাকি তথ্য তার বাবা আসলে জানা যাবে।

তিনি আরো জানান, ট্রেন দুর্ঘটনার পর গত ২৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়। তারপর নিয়মিত পরিচর্যায় গত দুই দিনে সে অনেকটা ভালো আছে। দুর্ঘটনার পর সে অজ্ঞান ছিল। পরে জ্ঞান ফিরে একটু সুস্থ হলে, সে জানিয়েছিল তার নাম রবিউল। কিন্তু ঠিকানা বলে ভিন্ন ভিন্ন। একবার বলে তার বাড়ি নরসিংদী, আরেকবার বলে ঢাকার গুলিস্তানে। তবে বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকালের দিকে সে জানায়, তার বাবার নাম সুমন আর তাদের বাড়ি বরিশাল। সে ট্রেনেই থাকে, এছাড়া তেমন কিছু বলতে পারছিল না।

রবিউলকে উদ্ধারের পর প্রথমে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে শিশুটির ছবি দিয়ে তার অভিভাবকদেরকে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও রবিউলকে নিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়। পরে শিশুটির বাবাকে ফিরে পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালেন করেন একটি সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক দল। তারা ফেসবুক আইডি থেকে রবিউলের ছবি পোস্ট করে। সেটা নজরে এলে রবিউলের বাবা মিলন মিয়া মিরপুর থানায় গিয়ে যোগাযোগ করেন। পরে মিলন মিয়ার সঙ্গে রবিউলের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা হয়। 

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ জানান, ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশুর স্বজনদের খোঁজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় খবর প্রকাশ হয়েছে। তাই শিশুটির বাবা দ্রুতই তার সন্ধান পেয়েছে। 

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা এগারসিন্দুর গোধূলি ট্রেনের সঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মালবাহী ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। ভৈরব রেলস্টেশনের আউটার পয়েন্টে ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের শেষ তিন বগিতে ধাক্কা দেয় মালবাহী ট্রেনটি। এতে যাত্রীবাহী ট্রেনের কয়েকটি বগি উল্টে যায়। নিহত হন ১৭ জন। আহত হয়েছেন ৭৫ জন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!