ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা

ট্রেন দুর্ঘটনার স্মৃতি ভুলতে পারছে না রবিউল 

নাজির আহমেদ আল আমিন, ভৈরব
প্রকাশিত: ০৮:১৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৩
ট্রেন দুর্ঘটনার স্মৃতি ভুলতে পারছে না রবিউল 
শিশু রবিউল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এখনো ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার স্মৃতি ভুলতে পারছে না ট্রেন দূর্ঘটনায় বেচেঁ যাওয়া দশ বছর বয়সী শিশু রবিউল। বার বার ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠছিল আর কাঁপছিল। তবে শিশুটির আহত হওয়ার কথা জানেন না তার স্বজনেরা।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশুটির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও সেবিকাদের কাছ থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনায় ঠোঁট ও পিঠে আঘাত পায় শিশুটি। তাকে অচেতন অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়ছে। তার জ্ঞান ফেরার পর ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠছিল আর কাঁপছিল।
 
আহত শিশু রবিউল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের জানায় এবং চিকিৎসকরা গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, দশ বছর বয়সী এই শিশু তার বন্ধুর সঙ্গে ট্রেনে কিশোরগঞ্জের ভৈরব আসে। বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য আন্তনগর এগারোসিন্ধুর ট্রেনের যাত্রী হয়েছিল তারা। পরে দুর্ঘটনায় অন্য আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। রাত ১১টার মধ্যে একে একে অন্য আহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা এসে তাদের বাড়ি কিংবা অন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু সেই শিশুটিই রয়ে যায়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও সেবিকাদের কাছ থেকে আরো জানা যায়, দুর্ঘটনার খবর এখন পর্যন্ত শিশুটির পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছায়নি। তাকে অচেতন অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। জ্ঞান ফেরার পর ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠছিল আর কাঁপছিল।

Advertisement

এ কারণে তাকে ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। রাত দশটার দিকে ঘুম ভাঙার পর কিছুটা স্বাভাবিক হয় শিশুটি। তখন জানায়, তার নাম রবিউল। বাবা মিলন মিয়া। বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরায়। গ্রামের নাম বলতে পারছে না সে। কারো নম্বরও স্মরণ করতে পারছে না সে। তাই হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে মা–বাবার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে শিশু রবিউল।

এদিকে রাত দশটার দিকে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান হাসপাতালে এসে শিশুটিকে এসে দেখে গেছেন।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, শিশুটির এখন বড় সমস্যা ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি ভুলতে পারছে না। এই সময়ে স্বজনদের কাছে পেলে শিশুটির মানসিক অবস্থার উন্নতি হতো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!